সপ্তাহের ব্যবধানে ঝিনাইদহে বেড়েছে চাল-তেল-আটার দাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৬:১৩ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১

‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে বাজারে এসে দেখি গত সপ্তাহের তুলনায় দাম বেড়েছে সবকিছুর। আমাদের আয় না বাড়লেও দিনদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। একটু মুরগির মাংস, সবজি কিনবো তার দামও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বাজার থেকে পণ্য কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে এখন।’ বাজার করতে এসে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজ্জাক হোসেন নামে এক রিকশাচালক।

রোববার (১৭ অক্টোবর) ঝিনাইদহ শহরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় সব জিনিসের। গত সপ্তাহে চিকন চাল প্রতি কেজি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে দাম বেড়ে হয়েছে ৫৭ টাকা। তবে মোটা চালের দাম কেজিতে দুই টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা। গত সপ্তাহে এক কেজি আটার প্যাকেটের দাম ছিল ৩৪ টাকা। আর এ সপ্তাহে তা বেড়ে হয়েছে ৩৮ টাকা। আগামী সপ্তাহে আরেক দফা দাম বেড়ে ৪২ টাকা হতে পারে বলে জানান বিক্রেতারা।

এছাড়া বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৫৪ টাকায়। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী পাঁচদিনের ব্যবধানে এই সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে চার শতাংশ। তবে বাজারে ডিমের দাম হালিতে তিন টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে ডিমের দাম ৩৮ টাকা থাকেলেও বর্তমানে ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, তেজপাতা প্রতি কেজি ২০০ টাকা, আদা ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রসুনের দাম কেজিতে ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৬৫টাকা দরে। এছাড়া বিভিন্ন সবজির বাজারও চড়া।

ঝিনাইদহের হাটখুলা বাজারে সপ্তাহের বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, বাজার থেকে পণ্য কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে। মানুষের আয়ের যে অবস্থা তার সঙ্গে কোনো মিল নেই বাজার দরের। একটু কম দামে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে ঘুরছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে।

আব্দুল্লাহ নূর তুষার নামের এক দিনমজুর বলেন, ‘আমাদের আয়ের থেকে ব্যয় বেশি হচ্ছে। দিনমজুরি করে সারাদিন যে টাকা আয় করি বাজার করতে গেলে সব শেষ। তাহলে চলবো কী করে? সংসারে আরও খরচ রয়েছে।’

বাজার করতে আসা সোহেল রানা বলেন, ‘সপ্তাহ ধরে ক্রমে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। পরিবার পরিজন নিয়ে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বাঁচার উপায় থাকছে না আর। মহামারির কারণে কপাল পুড়েছে মানুষের। মহামারির সময় যাদের চাকরি চলে গেছে, তাদের বেশির ভাগই চাকরি ফিরে পাননি। এই পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের বাজারের আগুন মানুষের চামড়া পোড়াচ্ছে।’

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এফআরএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]