সংসার ভাঙার সন্দেহে ঘটককে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২১

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় জামাল সাকিদার (৫২) নামে এক ঘটককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একের পর এক সংসার ভেঙে যাওয়ার পেছনে হাত থাকার সন্দেহে জামালকে তারা হত্যা করেন।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে জেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিন হাসানের আদালতে গ্রেফতাররা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

নিহত জামাল সাকিদার গাবতলী উপজেলার ধোড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত সদের সাকিদারের ছেলে। তিনি ইটভাটা শ্রমিকের সরদার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ঘটকালি করতেন।

গ্রেফতাররা হলেন- গাবতলী উপজেলার ধোড়াপূর্বপাড়া গ্রামের মৃত কালু সাকিদারের দুই ছেলে জব্বার সাকিদার (৩৫), ও আব্দুল মজিদ সাকিদার (৩০)।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জামাল সাকিদার পেরীরহাট থেকে বাড়ি ফেরার জন্য একই গ্রামের জব্বার সাকিদারের ভ্যানে চড়েন। পথে তিন-চারজন ব্যক্তিও ওই ভ্যানে চড়েন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোলাকুরিয়া ভাঙা ব্রিজের পূর্ব পাশে জব্বার ভ্যান থামাইলে ওই চার ব্যক্তি জামালকে ছুরি দিয়ে মাথায় ও পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জামালকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় জামালের ছেলে রুবেল (৩২) বাদী হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর গাবতলী মডেল থানায় মামলা করেন। ৯ অক্টোবর শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামাল মারা যান।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মামলার পর থেকে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোববার রাতে গাবতলী উপজেলার দূর্গাহাটা বাজার থেকে মামলার মূল আসামি জব্বার সাকিদার ও আব্দুল মজিদ সাকিদার নামে দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে ওসি বলেন, জামালকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বড়ভাই জব্বার তিনটি বিয়ে করলেও একটি সংসারও টিকে না এবং ছোটভাই আব্দুল মজিদের সংসারও টিকে না। এ সংসার না টিকার পেছনে জামালের হাত আছে বলে সন্দেহ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]