সঙ্গীরা ফিরলেও তিস্তার স্রোতে নিখোঁজ হলেন বদিয়ার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২১
প্রতীকী ছবি

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে তিস্তা নদীতে ডুবে বদিউজ্জামান ওরফে বদিয়ার (৫৫) নামে এক যুবক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে থেতরাই ইউনিয়নে তিস্তা নদীর পশ্চিম পাড়ে জুয়ান সতরা চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ বদিউজ্জামান উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের নগরপাড়া কিশোরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে বদিউজ্জামানসহ আরও ছয়জন ইউনিয়নের নগরপাড়া কিশোরপুর গ্রাম থেকে একই ইউনিয়নের জুয়ান সতরা চর এলাকায় ঘাস কাটতে যান। ঘাস কাটা শেষে তা বস্তায় ভরে দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এসময় তারা নদীটি পানিতে পূর্ণ দেখতে পান। তখন ঘাস ভর্তি বস্তাগুলো নদীর পানিতে ভাসিয়ে যার যার বস্তা নিয়ে তিস্তার পূর্বপাড় নগরপাড়া কিশোরপুর এলাকার দিকে ফেরত আসার চেষ্টা করলে পানির তীব্র স্রোতে পড়েন তারা। এসময় একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে সবাই পাড়ে ফিরতে পারলেও বদিউজ্জামান ওরফে বদিয়ার পেছনে থাকায় স্রোতের টানে তলিয়ে যান। পরে ফেরত আসা ছয়জনের মধ্যে চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি বদিউজ্জামানের পরিবারকে জানালে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা মিলে একাধিক নৌকা দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিখোঁজ বদিয়ারের সঙ্গী ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, বদিয়ারসহ আমরা স্থানীয় সাতজন মিলে ঘাস কাটতে সকাল দশটার দিকে তিস্তা নদীর পশ্চিম পাড়ে জুয়ান সতরা চর এলাকায় যাই। সেসময় হাটু পানি থাকায় হেটে গিয়েছিলাম আমরা। ঘাস কেটে দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ি ফেরার সময় দেখি নদীটি পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। পরে সবাই ঘাসের বস্তা পানিতে ভাসিয়ে তাতে চড়ে নদীর পূর্ব পাড়ে ছয়জন ফিরে আসতে সক্ষম হলেও পেছনে থাকা বদিয়ার স্রোতে পড়ে নিখোঁজ হন। এসময় আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারলেও বদিয়ার পেছনে পড়ায় তাকে তুলে আনতে পারিনি। চারজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তারা নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি বলেন, বদিয়ার আমাদের চোখের সামনেই স্রোতে পড়ে ডুবে গেলো। আমরা ফিরে আসতে পারলেও তার ডুবে যাওয়ার ভয়ানক দৃশ্য এখনও চোখে ভাসছে। এমন ভয়ানক দৃশ্য আমি কখনও দেখিনি।

থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিখোঁজ বদিয়ারের অনুসন্ধানের জন্য স্থানীয় দুটি নৌকা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। আমি বিষয়টি থানা পুলিশকে জানিয়েছি।

উলিপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ারম্যান মিম হায়দার বলেন, এসিল্যান্ড মহোদয় যুবকের নিখোঁজের বিষয়টি জানালে আমরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলি। আমাদের নিজস্ব ডুবুরি না থাকায় এবং বিষয়টি সন্ধ্যার দিকে জানতে পারায় আমরা উদ্যোগ নিতে পারিনি।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির বলেন, তিস্তা নদীতে নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তবে উদ্ধার তৎপরতার সবশেষ খবর আমার জানা নেই।

মো. মাসুদ রানা/ইউএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]