ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বরগুনায় যুবলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৬

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৯:০২ এএম, ২১ অক্টোবর ২০২১

বরগুনার বামনা উপজেলায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে যুবলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।

বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে বামনার ডৌয়াতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদেকের সমর্থক আসিফ (২৭) ও রিন্টু (২৫) হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদেক ও ডৌয়াতলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন খানের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। প্রায়ই একজন আরেকজনকে নব্য আওয়ামী লীগ বলে ফেসবুকে পোস্ট করতো। এ ছাড়া একে আরেকজনকে স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের কর্মী দাবি করেও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করতো।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদেক জাগো নিউজকে বলেন, গত কয়েকবছর যাবত ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা জসিম বিভিন্ন সময় ফেসবুকে আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করতো। তাকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও সে পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকেনি।

তিনি আরও বলেন, বুধবার ডৌয়াতলা বাজার থেকে আমার দলীয় কর্মী ও স্বজনরা আসার পথে পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আমার স্বজন আরেফিন আসিফকে কুপিয়ে জখম করে তাদের আটকে রাখে। আমি পুলিশকে ফোন করে ঘটনাস্থলে গেলে আমার ওপরও হামলা চালায় জসিম ও তার সঙ্গে থাকা ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এ সময় আমিসহ চারজন আহত হই। পরে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে ডৌয়াতলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন খান জাগো নিউজকে বলেন, আমার ওপর আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। সাদিকুর রহমান উল্টো আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আমি তাদের ওপর কোনো হামলা করিনি। পূর্ব শত্রুতার জেরেই আমাকে পিটিয়েছে সাদিকুর রহমান। আমি কখনোই তাকে নিয়ে ফেসবুকে বাজে পোস্ট করিনি।

এ বিষয়ে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বশিরুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এলাকায় এখনো পুলিশ টহলে আছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমার স্ত্রী অসুস্থ। তাই আমি বরগুনার বাইরে। আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।

বরগুনা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জেনে যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]