‘এখন হাতে-পায়ে ধরে, নির্বাচন গেলে আর চেনে না’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ০১ নভেম্বর ২০২১

‘নির্বাচন আইলে হাতে ধরবো, পায় পর্যন্ত ধরবো। চেয়ারম্যান মেম্বর নির্বাচিত ওইলে আর চেনে না। আর বাড়ি সুদ্ধা আহে না। গেলে কয় তোমগো দিম কইত্তন, যা পাই আমাগেইতো লাগে। আমরা টাহা খুয়াইয়া চেয়ারম্যান মেম্বর ওই নাই।’ ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন শরীয়তপুরের ডোমসার ইউনিয়নের ভোটার ৭৫ বছর বয়সী শ্রীমতি বেগম।

ভোটার মনোয়ার হোসেন (৪০) জানান, ভোট এলে প্রার্থীদের আনা-গোনার কমতি থাকে না। ভোট শেষ হলেই তাদের দেখা পাওয়া যায় না। প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়ে সে মোতাবেক কাজ করে না। তারা নির্বাচনের পর সব ভুলে যান।

ভোটার ইকবাল হোসেন জানান, অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। কিন্তু ইউনিয়নের তেমন কোনো উন্নয়ন হয় না।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে ইউনিয়নের অলি-গলি, বাসা-বাড়ি, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায়।

jagonews24

নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীরা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে কোমর বেঁধে নির্বাচনী মাঠে দিন-রাত সময় দিচ্ছেন। তারা ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের আদর্শের বয়ানসহ ইউনিয়নে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীরা দল বেঁধে প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকা সরগরম করে তুলছেন। তারা অটোরিকশা, ইজিবাইক, নসিমন ও রিকশায় মাইক বেঁধে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনকি স্কুল, কলেজ, মসজিদ, হাসপাতালের নিকটও মাইক বাজিয়ে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও আদর্শের কথা বলছেন।

৯টি ইউনিয়নে ৩৯২ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদার, চন্দ্রপুর ইউনিয়নে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম খান, চিতলিয়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন-অর-রশিদ এবং চিতলিয়া ইউনিয়নের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ীরা ব্যাতীত আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা হলেন, আংগারিয়া ইউনিয়নে আসমা আক্তার, ডোমসার ইউনিয়নে মিজান মোহাম্মদ খান, পালং ইউনিয়নে আবুল হোসেন দেওয়ান, তুলাসার ইউনিয়নে জামাল হোসাইন, রুদ্রকর ইউনিয়নে সিরাজুল ইসলাম, শৌলপাড়া ইউনিয়নে মো. আলমগীর হোসেন খান ও মাহমুদপুর ইউনিয়নে লিয়াকত হোসেন হান্নান তালুকদার।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী নির্বাচন করছেন না।

এদিকে সংরক্ষিত নারী সদস্য ৮৬ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২৭৬ জন প্রার্থীও মাঠে-ঘাটে কোমর বেঁধে অবিরাম প্রচারণা চালাচ্ছেন। সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বাজার, অলি-গলি, চায়ের দোকান, হোটেল, বিভিন্ন স্থাপনা ও বসত বাড়ির সামনে পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যান্য প্রার্থীরাও বলেন জনগণের ইচ্ছাতেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। তাই জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে জয় করবেন এ কামনা করছেন তারা।

jagonews24

নারী প্রার্থীদের সাথে যেমন তাদের স্বামী সন্তানরাও মাঠে নেমেছেন। তেমনি পুরুষ প্রার্থীদের সাথেও স্ত্রী সন্তানরা বসে নেই। সবার লক্ষ্য ভোট যুদ্ধে জয়।

ডোমসার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) মিজান মোহাম্মদ খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। আমি নির্বাচিত হতে পারলে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করব। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করাসহ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো।

শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান
ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইয়াসিন হাওলাদার (মোটরসাইকেল প্রতীক) বলেন, জনগণের ইচ্ছাতেই নির্বাচন করে চেয়ারম্যান হয়েছিলাম। এবারও জনগণের ইচ্ছাতেই প্রার্থী হয়েছি। আশাকরি জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করবে।

ছগির হোসেন/এফএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।