আশ্বাসে সেবা স্বাভাবিক রাখার ঘোষণা কক্সবাজার-মহেশখালী পৌরসভার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ০১ নভেম্বর ২০২১

সরকার ও দলের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে নাগরিক সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ঘোষণা দিয়েছে কক্সবাজার ও মহেশখালী পৌরসভা।

সোমবার (১ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী।

সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌরসভার মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহাবুবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আমাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে শিগগির তদন্ত সাপেক্ষে মেজর মুজিবের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্যানেল মেয়র মাহাবুব বলেন, সেবা বন্ধ করা পৌরসভার কাজ নয়। জনভোগান্তি তৈরি আমরাও করতে চাইনি। কিন্তু মোনাফকে হত্যা চেষ্টায় একটি মহল মেয়র মুজিবকে জড়িয়েছে। এতে মুজিবের মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সেই সম্মান ফিরিয়ে আনতেই কর্মবিরতি করেছিলাম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেই জরুরি সভায় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ( ভারপ্রাপ্ত) ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান এবং মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক উপস্থিত ছিলেন।

২৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯ টায় শহরের সুগান্ধা পয়েন্টে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মোনাফ সিকদারকে গুলি করা হয়। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই ঘটনায় আহত মোনাফ সিকদারের ভাই শাহাজাহান সিকদার বাদী হয়ে ৩১ অক্টোবর মেয়র মুজিবুর রহমান, তার ব্যক্তিগত সহকারী এবি ছিদ্দিক খোকন এবং কক্সবাজার সদর রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের ছোট বোন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাজনীন সরওয়ার কাবেরীসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আরও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার তথ্য প্রচার পাওয়ার পর তা প্রত্যাহার দাবিতে রোববার সন্ধ্যার পর কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোন এলাকার প্রধান সড়কসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক মুখে পৌরসভার আবর্জনা পরিবহনের গাড়ি রেখে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। রাস্তায় জ্বালিয়ে দেওয়া হয় টায়ার। রাতে এ বিক্ষোভ ও অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও সকাল থেকে সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেয় কক্সবাজার পৌর পরিষদ। তাদের দেখাদেখি মহেশখালী পৌর পরিষদও একই পথে হাটে। অবশেষে মঙ্গলবার থেকে সেবা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।