‘ভোটে হেরে’ সাঁকো ভেঙে দিলো প্রার্থীর সমর্থকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০২১

ভোট না দেওয়ায় চার গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর কর্মীসমর্থকদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১২ নভেম্বর) দিনগত রাতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চরবেলগাছী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে এ উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আবু সাঈদ খাঁন রঞ্জু (টিউবওয়েল প্রতীক) ও নুরুন্নবী মন্ডল হিটলার (মোরগ প্রতীক) অংশ নেন। এরমধ্যে আবু সাঈদ খাঁন রঞ্জু পরাজিত হন। এতে করে তার কর্মীসমর্থকরা ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

‘ভোটে হেরে’ সাঁকো ভেঙে দিলো প্রার্থীর সমর্থকরা

এমনকি ভোট না দেওয়ায় চরকল্যাণী, চরবেলগাছী, চরবিনোদপুর ও বেলগাছী গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলেন। এতে করে এই এলাকার মানুষের যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই উপজেলা সদরে যেতে তাদের অন্তত পাঁচ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বাছেদ, আবু সালেম, আব্দুস সোবাহান বলেন, বাঙালী নদীর ওপর বেলগাছী নামক স্থানে ব্রিজ আছে। এ ব্রিজে যাওয়ার জন্য চরবেলগাছী এলাকায় গ্রামবাসীর চাঁদার টাকায় খালের ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। আর এই সাঁকোটি দিয়েই চার গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে থাকেন।

তারা অভিযোগ করে বলেন, ইউপি নির্বাচনে বেলগাছী গ্রামের মেম্বার প্রার্থী আবু সাঈদ খাঁন রঞ্জু হেরে গেছেন। তাকে ভোট না দেওয়ায় তার কর্মীসমর্থকরা যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সাঁকোটি ভেঙে দিয়েছেন। রাতের আঁধারে কাজটি করা হয়েছে। এতে করে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

‘ভোটে হেরে’ সাঁকো ভেঙে দিলো প্রার্থীর সমর্থকরা

সদ্য নির্বাচিত মেম্বার নুরনবী মন্ডল হিটলার বলেন, কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াতের সুবিধার্থে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেন। কিন্তু নির্বাচনী জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। যা ভাবতেও অবাক লাগছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন পরাজিত মেম্বার প্রার্থী আবু সাঈদ খাঁন রঞ্জু। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি ও আমার কোনো কর্মীসমর্থকরা জড়িত নই। ভোট না দেওয়ার কারণে মানুষের যাতায়াতের সাঁকোটি ভেঙে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।