লক্ষ্মীপুরে বিদ্রোহীদের চাপে কোণঠাসা নৌকার প্রার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১০:৪৮ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১
প্রতীকী ছবি

ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লক্ষ্মীপুরে বিদ্রোহীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। জেলার ২০ ইউনিয়নে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন ২৮ নভেম্বর। ইতোমধ্যে ১০ প্রার্থীসহ ১৫ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তারা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সঙ্গে মাঠে শক্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ছয় ইউনিয়নে বিদ্রোহীদের দাপটে অনেকটা কোণঠাসা নৌকার প্রার্থীরা। এজন্য রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ বর্ধিতসভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে ১৫ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকন ও রামগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু বহিষ্কারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ১০ নভেম্বর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ও ভাদুরসহ চার ইউনিয়নের চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। নিজেদের স্বতন্ত্র দাবি করে তারা এ আয়োজন করেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের শক্তির মহড়া এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তারা লিখিতভাবে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদেরকেও জানিয়েছেন।

তিনজন আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন, রায়পুর ও রামগঞ্জের ২০ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। এরমধ্যে মনোনয়ন বঞ্চিত ১০ ইউনিয়নে ১১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। দলের দায়িত্বশীল অন্য চার নেতা প্রচার কাজে তাদের সহযোগিতা করছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বর্ধিত সভায় ১৫ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। তারা হলেন- রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের জাফর উল্যা দুলাল হাওলাদার, চরপাতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য খোরশেদ আলম, কেরোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য বিএইচ বাবুল পাটোয়ারী, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ মোল্লা ও দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আবু তাহের মুন্সিকে।

রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমির হোসেন (প্রার্থী)। তাকে সহযোগিতা করায় ইছাপুর ইউনিয়নের সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, সাধারণ সম্পাদক এসআই ফারুক; ভাদুর ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া (প্রার্থী)। তাকে সহযোগিতা করায় সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম; নোয়াগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হোসেন রানা (প্রার্থী)। তাকে সহযোগিতা করায় সহ-সভাপতি মেসকাত হোসেন সর্দার, লামচর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক টুনা; উপজেলা কমিটির সদস্য চন্ডিপুর ইউনিয়নের ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী (প্রার্থী) ও সামছুল ইসলাম সুমনকে (প্রার্থী) বহিষ্কার করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তর চর আবাবিলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদ উল্যা। সেখানে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাফর উল্যা দুলাল হাওলাদার। লামচরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মাহেনারা পারভীন পান্না। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে আছেন ফয়েজ উল্যা জিসান পাটোয়ারী (আনারস)। শহিদ উল্যা ও মাহেনারা পারভীন বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশে পাচ্ছেন না। তারা যেন নৌকা মার্কা নিয়েও অসহায়। বিদ্রোহীদের সঙ্গে রাত-দিন নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণা করছেন সমান তালে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র দুই নেতা জানিয়েছেন, এবার দলের বাণিজ্য ও স্বজন-প্রীতির কারণে যোগ্য-পরিক্ষিত অনেক নেতা মনোনয়ন বঞ্চিত হন। এ কারণে রামগঞ্জের লামচর, ইছাপুর, নোয়াগাঁও, ভাদুর, রায়পুরের উত্তর চরআবাবিল ও চরপাতায় বিদ্রোহীরা প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ভোটের মাঠেও তারা এগিয়ে রয়েছেন।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, আমরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে মান-অভিমান ভুলে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য বলেছি। যাকে ভালো-যোগ্য মনে করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকেই নৌকা দিয়ে পাঠিয়েছেন। যারা দলীয় শৃঙ্খলা মানেননি তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। কোনো মনোনয়ন বাণিজ্য হয়নি।

কাজল কায়েস/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]