এক মাসেও ক্লুলেস কয়রার ট্রিপল মার্ডার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৯:৪২ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

ছয়জনকে গ্রেফতার করার পরও ক্লুলেস রয়ে গেছে খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালি ইউনিয়নের বাবা-মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এমনকি তিনজনকে কোথায় হত্যা করা হয়েছে সেটাও রয়েছে রহস্যাবৃত্ত।

এরইমধ্যে ট্রিপল মার্ডারের এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। ২৬ অক্টোবর কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের পাশের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মাজেদ গাজীর পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় তারই ছেলে হাবিবুল্লাহ গাজী (৩৩), ছেলের স্ত্রী বিউটি খাতুন (২৫) ও নাতনি হাবিবা খাতুন টুনির (১৩) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ট্রিপল মার্ডারের পর বেশ কয়েকজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে শত্রুতা ছিলো এমন কয়েকজনকে থাকায় ঘটনার দিন পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যা মামলায় বামিয়া গ্রামের মৃত কওছার গাজীর ছেলে জিয়াউর রহমান জিয়া (৪১), কুদ্দুস গাজীর স্ত্রী সুলতানা (৩৮) ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ভাগবা গ্রামের মৃত মোকছেদ আলী সরদারের ছেলে আ. খালেককে (৬৫) আটক দেখিয়ে কয়রা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে বিচারক শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ডে কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন, কামরুল, বিল্লাল ও শামছুর। তবে এদের বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আসাদুল ইসলাম।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বাবা, মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের দিন থেকে একই গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে আব্দুর রশিদ গাজী নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এই বিষয়েও পুলিশ কিছু জানে না।

হত্যাকাণ্ডের পর প্রচার হয় হাবিবুল্লাহ গাজী তক্ষক সাপ ও পিনের ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তাদের ধারণা, তক্ষক ও পিন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লেনদেন নিয়ে ঝামেলায় এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত কোনো তথ্য নয়।

নিহত হাবিবুল্লাহ গাজীর মা ও মামলার বাদী কোহিনুর খানম তার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ট্রিপল মার্ডারের বিষয়ে কোনো ক্লু এখনও উদ্ধার হয়নি। পরে গ্রেফতার হওয়া কামরুল, বিল্লাল ও শামসুররাও কোনো তথ্য দিয়েছে কিনা তাও তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, রিমান্ডে আটকদের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমরা আশাবাদী হত্যাকাণ্ডের ক্লু অতি দ্রুত উদঘাটন করতে পারবো।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হোসেন বলেন, আমাদের তদন্তে কোনো ঘাটতি নেই। আশা করি খুব দ্রুত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য আমরা ভেদ করতে পারবো।

আলমগীর হান্নান/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]