বেড়ানো হলো না খালাবাড়ি, লাশ হয়ে নানাবাড়ি যাচ্ছেন দুর্জয়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৫:২০ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

রাজধানীর রামপুরায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত স্কুলছাত্র মঈনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়ের দাফন তার নানাবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরের শাহী মসজিদের কবরস্থানে করা হবে। মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর মরদেহ সরাইলে সদরের হালুয়াপাড়ায় নানাবাড়িতে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে নিহতের খালাতো ভাই খোরশেদ আলম। এশার নামাজের পর তার মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আজ দুপুরে নিহত দুর্জয়ের নানাবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সবাই তার মরদেহের জন্য প্রতীক্ষা করছেন। কান্না থামছে না স্বজনদের। আফসোস করছেন প্রতিবেশীরাও। বাড়ির সামনের খালি জায়গায় মরদেহ রাখার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুর্জয়ের খালাতো ভাই খোরশেদ আলম বলেন, ‘ময়নাতদন্তের পর বাদ জোহর ঢাকায় একটি জানাজা হয়েছে। সেখান থেকে লাশবাহী গাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সন্ধ্যার পর লাশ এসে পৌঁছাবে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাদ এশা জানাজা শেষে দাফন করা হবে।’

খালা আফিয়া বেগম বলেন, দুর্জয়ের গ্রামের বাড়ি সরাইল উপজেলার পানিশ্বর গ্রামে। কিন্তু প্রায় ২০ বছর আগে তার বাবা ভিটে-বাড়ি বিক্রি করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। তার গ্রামের বাড়িতে কেউ থাকেন না। ঢাকায় একটি চায়ের টং দোকান দিয়েছেন বাবা আব্দুর রহমান। দুর্জয়ের আরও এক ভাই ও এক বোন রয়েছে। ভাই মনির ঢাকায় রেন্ট-এ কারে গাড়ি চালান। ঢাকায় বোনের বিয়ে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে দুর্জয়ের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। রোববার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে তার খালাতো বোন আমোদা বেগম সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে জয়লাভ করেছেন। তাই আজ মঙ্গলবার খালার বাড়িতে বেড়াতে আসার কথা ছিল দুর্জয়ের। তবে জীবিত আর আসা হলো না তার। বাড়িতে এখন তার লাশ আসবে বলে কেঁদে দেন আফিয়া বেগম।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) রাতে রামপুরায় বাসচাপায় পিষ্ট হন দুর্জয়। তিনি রাজধানীর একরামুন্নেসা বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]