এবার ছেলে-মেয়ের পাশে চিরঘুমে কাওসার, সংকটাপন্ন স্ত্রী শান্তা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:২০ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১

মুন্সিগঞ্জে একটি ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতদের কিশোরগঞ্জের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্না থামছে না। পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে বিস্ফোরণে নিহত বাবা ও দুই শিশুসন্তানকে। জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে গৃহবধূ শান্তা খানমও।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কাওসার খান (৩৭)। এর আগে বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) রাতে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তার ছেলে ইয়াসিন খান (৬) ও মেয়ে ফাতেমা নোহরা খানম (৩)। তার স্ত্রীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

একই পরিবারের তিনজন একসঙ্গে চলে যাওয়া এবং দগ্ধ গৃহবধূর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় স্বজনদের আহাজারি থামছে না। নিহতদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ শহরের বোয়ালিয়া এলাকায়।

শনিবার সন্ধ্যায় কাওসার খানের গ্রামের বাড়ি সদরের বোয়ালিয়া এলাকায় তার মরদেহ আনা হলে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়। আগের দিন আনা হয় তার দুই সন্তানের মরদেহ। খানবাড়ি গোরস্থানে তাদের পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়।

নিহত কাওসারের স্বজনরা জানান, মুন্সিগঞ্জে আবুল খায়ের গ্রুপে সামান্য বেতনে চাকরি করতেন কাওসার খান। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন মুক্তারপুর এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায়। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে চর মুক্তারপুরের শাহ সিমেন্ট রোডে জয়নাল মিয়ার চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কাওসারের পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হন।

এবার ছেলে-মেয়ের পাশে চিরঘুমে কাওসার, সংকটাপন্ন স্ত্রী শান্তা

এ ঘটনায় কাওসারের স্ত্রী শান্তা বেগম (২৭) শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। দগ্ধ অন্যজন তাদের প্রতিবেশী হৃতিকা পাল (৪) স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। শান্তা বেগমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরেরও ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

নিহত কাওসার খান কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের বয়লা খান বাড়ির বাসিন্দা আব্দুস সালাম খানের ছেলে। তিনি মুন্সিগঞ্জের আবুল খায়ের গ্রুপে ওয়েল্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কাওসারের ছোট ভাই কাইয়ুম খান বলেন, ‘এ শোক আমরা কীভাবে সইবো? পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমরা এখন কী করবো?’ সরকারের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।

নিহত কাওসারের দুই ভাই ও তিন বোন রয়েছে। ভাইদের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

নূর মোহাম্মদ/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]