নির্বাচনী সহিংসতা: ভাঁড়ারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন স্থগিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:০৩ এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০২১

নির্বাচনী সহিংসতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াছিন আলী নিহতের ঘটনায় পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে এই ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এতে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াছিন মারা যান।

শনিবার রাতে চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো ঘটনায় বৈধ প্রার্থী নিহত হলে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পদের নির্বাচন স্থগিতের বিধান রয়েছে।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার কাওছার মোহাম্মদ বলেন, স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ এর বিধি ২০ (১) (২) অনুযায়ী ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের চারা বটতলার ইন্দারা মোড় কালুরপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু সাঈদ খান ও তার লোকজন প্রচার প্রচারণায় বের হন। এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের সুলতান মাহমুদের লোকজনও বের হন। একইসময় আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের ইয়াছিন আলম (ঘোড়া প্রতীক প্রার্থীর চাচাতো ভাই) মুখোমখি হলে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাজশাহী নেওয়ার পথে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াছিন আলম মারা যান।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে, দোষীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে শনিবার বিকেলে এলাকাবাসী এলাকায় বিক্ষোভ করেন। পরে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও অবস্থান করেন তারা। এছাড়া নিহত ইয়াছিন আলমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময়ে আটকে দেওয়া হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভের পর শনিবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তারা সড়ক অবরোধ ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মাসুদ আলম বলেন, ঘটনা তদন্তে কাজ করছে পুলিশ। তবে কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/কেএসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।