দুই প্রার্থীর সংঘর্ষের ভিডিও ধারণকালে তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
পাবনা সদর উপজেলায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণ করায় মোহাম্মদ নাসিম (২০) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার চরতারপুর ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাসিম তারাবাড়িয়া গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে। তিনি দুবলিয়ায় অবস্থিত হাজী জসিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রবিউল হক টুটুলের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান খানের সমর্থকরাও প্রচারণায় বের হন। উভয়পক্ষ তারারবাড়িয়া বাজারে মুখোমুখি হলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

এ সময় মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় কয়েকজন যুবক নাসিমকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আরও কয়েকজন ছুরিকাহত হন। পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অন্য একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান খান নাসিমকে নিজের কর্মী বলে দাবি করেছেন। তবে তিনি কারও সমর্থক নন বলে দাবি তার পরিবারের।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। নাসিম শখেরবসে ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করছিল। এ সময় পেছন থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চরতারাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রবিউল আলম টুটুল ও সুজানগর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এসজে/এএসএম