পাবনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে কলেজছাত্র খুনে দুই মামলা
পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত কলেজছাত্র নাসিমের (২০) বাবা নায়েব আলী ও স্বতন্ত্র (নৌকার বিদ্রোহী) প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে মামলা দুটি করেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত কলেজছাত্র নাসিমের বাবা নায়েব আলী তিন-চারজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি মামলার আরজিতে জানিয়েছেন, ‘তার ছেলে বাজারে ওষুধ কিনতে গিয়েছিল। সেখানে দু’ প্রার্থীর নির্বাচনী সংঘাত চলাকালে তিন-চারজন অজ্ঞাতনামা নাসিমকে ছুরিকাঘাতে খুন করে।’
এছাড়া আনারস প্রতীকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান খান সোমবার রাতে পৃথক আরেকটি মামলা করেছেন তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। তিনি নামীয় ও অজ্ঞাত মিলিয়ে অন্তত ৫০ জনকে আসামি করেছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে কলেজছাত্রকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। তারাবাড়িয়া গ্রামে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সোমবার রাতেই মামলা দুটি গ্রহণ করেছে। পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করেছে। প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার( ১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা সদর উপজেলার তারাবাড়িয়া ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া বাজারে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী রবিউল আলম টুটুল ও আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ( নৌকার বিদ্রোহী) প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় নাসিম কৌতুহলবশত ঘটনার ছবি তার মোবাইল ফোনে ধারণ করছিল। এ সময় কয়েকজন যুবক নাসিমকে উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এফএ/জেআইএম