চেয়ারম্যানের নির্দেশেই দোকান কর্মচারী শাহিনকে পিটিয়ে হত্যা
ফেনীতে দোকান কর্মচারী শাহিন চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেফতার জাহিদ হোসেন মজুমদার আরিফ ও মো. রহিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
কোর্ট পুলিশের একটি সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিতে তারা স্থানীয় মির্জানগর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ভুট্টুর নির্দেশে ও তার উপস্থিতিতে শাহিন চৌধুরীকে মারধর করেন বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমাতুজ জোহরা মুনের আদালতে ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মধুগ্রামের বাবুল মেম্বারের ছেলে আবুল হাশেমের কাছে সাত লাখ টাকা পাওনা ছিল আবু বকর ফিশ ফিডের। বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ওই টাকা পরিশোধের কথা ছিল। রাতে হাশেম দোকানে এসে টাকা পরিশোধ করবেন না বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে দোকানের ম্যানেজার জয়নাল উদ্দিন চৌধুরী ও কর্মচারী শাহিন চৌধুরীর সঙ্গে বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে হাশেম বিষয়টি মোবাইলে মির্জানগর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ভুট্টুকে জানান।
খবর পেয়ে ভুট্টু ও তার সহযোগীরা দুটি মোটরসাইকেলযোগে দোকানে এসে কর্মচারী শাহিন চৌধুরীকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে শাহিন অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা চলে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত শাহিন চৌধুরীর স্ত্রী ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে পরশুরাম থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ হোসেন জানান, শাহিন চৌধুরী হত্যা মামলায় এনায়েত হোসেন আকাশ, রহিম, জাহিদ হোসেন, মজুমদার আরিফ ও ওমর ফারুক চৌধুরী আজিম নামের পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে আরিফ ও রহিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নুর উল্লাহ কায়সার/এসআর/জেআইএম