প্রার্থী বাছাইয়ের সভায় আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১
সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়

পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য অনুষ্ঠিত সভায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষে বগা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাসান মাহামুদ (৩৫), বাউফল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অহিদুজ্জামান ডিউকসহ (৪০) দুই পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ইউপি চেয়ারম্যান হাসান মাহামুদ, মো. জসিম (৩৪), মিজান মোল্লা (৪০), সুমন (৩০) মো. আশ্রাফকে (২৮) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সুব্রত কুমার বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে হাসান মাহামুদ ও জসিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

jagonews24

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২৩ ডিসেম্বর বাউফল পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩১ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন ধার্য হয়েছে। দলীয় মনোনয়নের জন্য মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

বিকেল সাড়ে ৩টায় স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ স ম ফিরোজের সভাপতিত্বে ওই সভা শুরু হয়। একপর্যায়ে আ স ম ফিরোজের ভাতিজা ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত চন্দ্রদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আলকাচ মোল্লা বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার তাকে (আলকাচ) উদ্দেশ করে বলেন, আপনি বক্তব্য দেওয়ার কে? আপনাকে তো দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম ফারুকের অনুসারীরা সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেবকে গালাগাল করেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মী সৌমিক (২২), সাবেক ছাত্রদল কর্মী মো. শামীম (২৮), আতিকুর রহমান (৩০) ও কালাইয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান মোল্লার (৪২) নেতৃত্বে ৬০-৭০ জনের একটি দল আবদুল মোতালেবের ছেলে বগা ইউপির চেয়ারম্যান হাসান মাহামুদকে টেনেহেঁচড়ে বাইরে নিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে।

তাকে রক্ষা করতে তার নেতাকর্মীরা এগিয়ে গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে হাসান মাহামুদ, মো. জসিম, মো. ইসমাইল হোসেন, সুমন, মো. ইমরান, মিজান মোল্লা, জগদিসসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পুলিশ আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

jagonews24

সংঘর্ষের ওই দৃশ্য ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক অহিদুজ্জামানকে মারধর করে আহত করা হয় ও যুগান্তরের সাংবাদিক জিএম মশিউর রহমানের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে সভা শেষ না করেই আবদুল মোতালেব হাওলাদার সভাস্থল ত্যাগ করেন।

সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, ঘটনার সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর সাহেব আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে চান। তাই আমি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা আলকাচ মোল্লাকে বলি, আপনি তো বহিষ্কৃত নেতা। আপনার বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এতেই বিএনপি ও জাতীয় পার্টি থেকে আসা আরেক নেতা ইব্রাহিম ফারুকের অনুসারীরা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমাকে গালাগাল করে। আমার ছেলেসহ আমার নেতাকর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ জাগো নিউজকে বলেন, এটি আওয়ামী লীগ অফিসের কোনো ঘটনা নয়। আমরা ঠিকভাবে আমাদের মিটিং শেষ করেছি। বাইরে কিছু ছেলেপেলে নিজেরা নিজেরা কথাকাটাকাটি করেছে। পরে শুনেছি কয়েকজন আহত হয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সংঘর্ষের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আব্দুস সালাম আরিফ/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।