খড়কুটোই একমাত্র ভরসা ওদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২২

হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় কাতর লালমনিরহাটের মানুষ। গত দুই দিন থেকে জেঁকে বসেছে শীত। প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রা। হঠাৎ শীত বেড়ে যাওয়ায় কাবু হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা। নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (০৩ জানুয়ারী) দুপুর ১২টায় সূর্যের দেখা মিললেও বেড়েছে কনকনে ঠান্ডা। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে তিস্তাপারের মানুষ।

jagonews24

এদিকে সোমবার সকালে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ৬ মাসের শিশু শিউলীর মৃত্যু হয়েছে। ওই শিশু সদর উপজেলা কুলাঘাট ইউনিয়নের চর কুলাঘাটের রায়হান মিয়ার মেয়ে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল আলম দোলন শিশুর মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, সোমবার সকালে লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

ঠান্ডা বাতাসে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। গত দুই দিনে বেড়েছে শীত। শহরের বাইরে পুরো এলাকা রয়েছে কুয়াশার চাদরে ঢাকা। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে লালমনিরহাটে তিস্তার ৬৩ চরের খেটে খাওয়া মানুষ।

হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে তিস্তা তীরবর্তী এলাকার মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। শীতের তীব্রতা ও হিমেল হাওয়া বাড়তে শুরু করেছে। ঘর থেকে বের হতে পারছে না সাধারণ মানুষ।

পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামের বাসিন্দা রব্বু মিয়া জানান, হামার এদিক খুব ঠান্ডা, এই ঠান্ডায় ঘর থাকি বেড়ার মান চায় না। দুই দিন ধরি কাজতও যাই না। যে শীত কবে যে যায়। এই শীতে কষ্টে আছি।

কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী শোইলমারী গ্রামের আকবার আলী জানান, তিস্তার চরে শুধু হু হু করি বাতাস নাগে। দুই দিন ধরি হামাগুলার অবস্থা খারাপ। ঘুম থাকি উঠি খড়, খড়ি জড়ো করি আগুন পোয়াচ্ছি। এই চরত কাহো কম্বল ধরি আইসে না।

jagonews24

লালমনিরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় জানান, হাঁপানি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া ও ডাইরিয়ায় আক্রন্ত হয়ে পাঁচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়ষ্ক ৮৬ জন রোগীর ভর্তি রয়েছেন। শীতের তীব্রতা বাড়লে রোগী আরও বাড়তে পারে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, এ পর্যন্ত ২২ হাজার মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও শীতবস্ত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

রবিউল হাসান/এফএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।