ছাগল থাকার পাশের রুমে ৩ বছর ধরে প্রাথমিকের পাঠদান!

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি দাউদকান্দি (কুমিল্লা)
প্রকাশিত: ০৭:২৩ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২২
স্কুল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ভাড়া বাসায় চলে পাঠদান

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঠিকাদারের গাফিলতিতে তিন বছরেও শেষ হয়নি মাওরাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ। আধা কিলোমিটার দূরে এক ব্যক্তির বাড়িতে, কখনও উন্মুক্ত জায়গায় চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

সূত্র জানায়, উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাওরাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কাজ পায় দাউদকান্দির ‘মেসার্স ফারুক এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। এক বছরের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি।

jagonews24

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল ভূইয়া বলেন, ‘আমরা তিন বছর ধরে ভাড়া করা বসতবাড়িতে পাঠদান করাচ্ছি। ভাড়া করা বাড়িটিতে প্রয়োজনীয় কক্ষ ও আসবাবপত্র না থাকায় দুইটি শ্রেণির পাঠদান একটি কক্ষে করতে হচ্ছে। এতে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।’

সরেজমিন বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজ এখনও অনেকটাই বাকি। পাঠদান করা ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দুই রুমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। পাশের রুমেই বাড়ির মালিক ছাগল লালন-পালন করছেন।

jagonews24

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম জাগো নিউজকে বলে, ‘এক রুমে ছাগল লালন, অন্য রুমে আমাদের পাঠদান করা হয়। এতে আমাদের ক্লাস করতে খুবই কষ্ট হয়। এজন্য আমার অনেক সহপাঠী ভর্তি হয়ে অন্য স্কুলে চলে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় আছি। প্রতিষ্ঠানটিতে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আমরা এর সমাধান চাই।

jagonews24

ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এতদিনেও বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি বলে জানান উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব রহমান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে অনেকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও ঠিকাদার কাজটি সম্পূর্ণ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল ইসলাম খান বলেন, দ্রুত কাজটি শেষ করতে উপজেলা প্রকৌশলীকে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে। ভবনটি নির্মাণে কেন এত বিলম্বিত হচ্ছে তা আমার জানা নেই।

jagonews24

জানতে চাইলে ঠিকাদার ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, করোনার কারণে শ্রমিকদের অভাবে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তবে যতদ্রুত সম্ভব কাজটি শেষ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]