ঠাকুরগাঁওয়ে হুমকিতে এলাকা ছাড়লো গাছিরা, খেজুরের গুড় তৈরি বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২২
বিশাল খেজুর বাগান। ইনসেটে গুড় তৈরি করছেন কারিগররা। বোচাপুুকুর, ঠাকুরগাঁও সদর। ছবি-জাগো নিউজ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বোচাপুুকুর এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি খেজুরের বাগান। চার বছর ধরে শীত মৌসমে এই বাগানের খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হচ্ছিল গুড়। তবে মৌসুমের মাঝামাঝিতেই চাঁদাবাজের হুমকিতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে গাছিদের। এজন্য খেজুর গুড় উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের এই বাগানে ছোট-বড় ৫০০টি খেজুরগাছ ছিল। ২০১৮ সালে রাজশাহীর কয়েকজন গাছি বাগানটি লিজ নেন। তারা গাছের রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতেন। ধীরে ধীরে খেজুরের রস ও রস থেকে তৈরি গুড় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল জেলাজুড়ে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার গুড় যাচ্ছিল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

প্রতিবছরের মতো এ বছরও রাজশাহীর গাছিরা বাগানে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি শুরু করেন। জানা গেছে, কিছুদিন আগে একদল যুবক চাঁদার দাবিতে গাছিদের হুমকি দেন। এতে গুড় তৈরি বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন গাছিরা।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে খেজুরের গুড় তৈরির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সেখানে গাছিদের দেখা পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হয় গাছিদলের প্রধান কারিগর সুজন আলীর সঙ্গে।

কারিগর সুজন আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে একরাতে কয়েকজন লোক এসে বিনামূল্যে খেজুরের রস খেতে চান। তাদের রস খেতে না দিলে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে তারা হুমকি দেন। রাতের সময় এসে হত্যা করবেন বলে ভয় দেখান।’

Thakur-(2).jpg

এক দুদিন পরপর বাগানে এসে চাঁদাবাজরা চাঁদা দাবি করেন বলে জানান সুজন আলী। তিনি বলেন, পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তারা চাঁদা দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে আমরা বাধ্য হয়ে গুড় তৈরি কাজ বন্ধ করে বাড়ি চলে আসি।’

চাঁদা দাবি করা ও হুমকিদাতাদের পরিচয় জানতে চাইলে সুজন আলী বলেন, ‘চাঁদা দাবি করা ও হুমকিদাতারা রাতের আঁধারে আসতো। নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় দিতো না। তাই তাদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।’

স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি অনেক দূরে। রাতের আঁধারে তারা যদি সেখানে আমাদের মেরে ফেলতো কে আসতো আমাদের বাঁচাতে? তাই প্রাণের ভয়ে আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাঘ মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত খেজুর রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতাম। কিন্তু হুমকি ও চাঁদা দাবি করার কারণে গত সপ্তাহে আমরা বাড়ি চলে আসি।’

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু তাহের মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। গাছিরা যদি বিষয়টি আমাকে জানাতেন তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। ভয় পেয়ে গুড় তৈরির কাজ বন্ধ না করে তাদের উচিত ছিল প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো। আগামীতে এরকম কোনো কিছু হলে কঠোর হস্তে তা দমন করা হবে।’

তানভীর হাসান তানু/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]