প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে তালা, থাকেন না বরাদ্দপ্রাপ্তরা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি দাউদকান্দি (কুমিল্লা)
প্রকাশিত: ০৬:৪৯ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২২
কুমিল্লার তিতাসে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের বেশিরভাগ ঘরেই তালা ঝুলছে। ছবি-জাগো নিউজ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের বেশিরভাগ ঘরেই তালা ঝুলছে। থাকছেন না বরাদ্দপ্রাপ্তরা। ছয়মাস না যেতেই কয়েকটি ঘরের মেঝে ও দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। তবে বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা এসব ঘরে থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-২) অধীন ২০২০-২১ অর্থবছরে তিতাস উপজেলায় ৫৫ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য আধাপাকা ঘর তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দাসকান্দিতে নির্মাণ করা হয়েছে ৫২টি ঘর। প্রতিটি ঘর তৈরিতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। গতবছর উদ্বোধনের পর ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয় উপকারভোগীদের মধ্যে। দুই কক্ষের এসব ঘরে সংযুক্ত একটি রান্নাঘর ও টয়লেট রয়েছে।

সরেজমিন দাসকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ ঘরেই থাকছেন না বরাদ্দপ্রাপ্তরা। ৫২টি ঘরের বেশিরভাগ ঘরে তালা ঝুলছে। নির্মাণ করা কয়েকটি ঘরের দেওয়াল ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে।

jagonews24

স্থানীয় এলাকাবাসী ও কয়েকটি ঘরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫২টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১০-১২টি ঘরে লোক থাকেন। বাকি ঘরগুলোর কেউ কেউ মাঝেমধ্যে এসে পরিষ্কার করে আবার চলে যান। আর কয়েকটি ঘর শুরু থেকেই তালাবদ্ধ। সেগুলোর বরাদ্দ পাওয়া লোকেরা আসেননি।

ছেনরা বেগম নামের ১১ নম্বর ঘরের বাসিন্দা জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে আমরা খুশি। কিন্তু বারান্দার দেওয়ালে দুই পাশেই ফেটে গেছে। বাথরুমের ট্যাংকের ময়লা যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। টিউবয়েলও চালু করা যাচ্ছে না। যে ঘর থেকে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে ওই ঘরে কেউ থাকেন না। তালামারা। সেজন্য টিউবয়েল চালু করা যায় না।’

ঘর বরাদ্দ পাওয়া কড়িকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের আমীর হোসেন বলেন, তিনি পেশায় দিনমজুর। কাজ না পেলে এলাকার লোকজন সাহায্য করেন। দাসকান্দি গিয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে কী করবেন, কী খাবেন—এ দুশ্চিন্তায় তিনি সেখানে যাচ্ছেন না।

jagonews24

এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আহসান উল্লাহ বলেন, ‘ঘর উদ্বোধন করার জন্য খুব তাড়াহুড়ো করে নির্মাণকাজ করা হয়েছে। তাই সেগুলোতে ঠিকমতো পানি দেওয়া হয়নি। এর ফলে হয়তো দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। যে ঘরগুলোতে ফাটল ধরেছে তা মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাভোগীদের কর্মমুখী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম মোর্শেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি চারমাস হলো এখানে এসেছি। বরাদ্দ পাওয়া ঘরের উপকারভোগীদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। যারা ঘরগুলোতে থাকছেন না তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে কী কারণে তারা থাকছেন না। বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]