নওয়াপাড়ায় সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেজিস্ট্রি!
যশোরের নওয়াপাড়ায় ছয় কোটি টাকার সরকারি খাস জমি জালিয়াতি করে ব্যক্তি মালিকানায় রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ভূমি অফিসের সহায়তায় গত ২৫ জানুয়ারি এ জমি রেজিস্ট্রি হয়। এরপর ক্রেতা ওই জমিতে সাইনবোর্ড টানালে বিষয়টি জানাজানি এবং তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জালিয়াতি ধরা পড়ায় রাজঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, যশোরের অভয়নগর উপজেলার তালতলায় যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে ভৈরব নদের তীরে জাফরপুর মৌজায় ২৩৬ খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত ৩ দাগে ৭৫ শতক সরকারি খাস জমি রয়েছে। জনৈক মইনুল ইসলাম এ জমি বন্দোবস্ত নিয়ে ভোগ দখল করছিলেন।
স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওই জমি সরকারের এসএ ১ খতিয়ানের সম্পত্তি। বন্দোবস্ত নেওয়ার সুযোগে মইনুল ইসলাম গোপনে ওই জমি নিজ নামে রেকর্ড করেন। গত ২৪ জানুয়ারি মইনুল ইসলাম রাজঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা অতন্দ্রা বিশ্বাসের কাছে সাড়ে ২৪ হাজার টাকা জমা দিয়ে ১৪২৮ সাল পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ নেন। এর পরদিনই ২৫ জানুয়ারি মইনুল ইসলাম ওই জমি শেখ আকিজ উদ্দিনের ছেলে শেখ নাসির উদ্দিনের কাছে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্যে রেজিস্ট্রি করেন। যার দলিল নম্বর ৫৪৯। পরবর্তীতে নাসির উদ্দিন লোকজন দিয়ে ওই জমিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। এরপরই সরকারি জমি বিক্রির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে তোলপাড় শুরু হয়।
এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য মইনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, জমির মালিকানা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা রয়েছে এবং জমি তিনি বিক্রি করেছেন।
অভয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিলা আক্তার বলেন, ঘটনা জানার পর ওই জমির দাখিলা বাতিল এবং রাজঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক বরাবর সুপারিশ করা হয়েছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি খাস জমি রেজিস্ট্রির বিষয়টি নজরে এসেছে। ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি রেজিস্ট্রি বাতিলের জন্যও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মিলন রহমান/এএইচ/এমএইচআর