যত্রতত্র মাইকিং বন্ধে হাকিমপুর পৌরসভার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌরসভার দক্ষিণ বাসুদেব চুড়িপট্টি এলাকার ষাটোর্ধ্ব মাবুদ মন্ডল। সখের বসে বাসায় তিনটি ছাগল পালন করেছিলেন। গতমাসে এক বিকেলে একটি ছাগল হারিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে পৌরসভার মাইকে প্রচার শুরু করেন। অবশেষে ছাগলটি তিনি ফেরত পান।
শুধু মাবুদ মন্ডল নয়, কারও কিছু হরিয়ে গেলে কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় প্রচার চালানো হচ্ছে পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় স্থাপিত মাইকে। কর্তৃপক্ষের দাবি, শহরের যত্রতত্র মাইকিংয়ে শব্দদূষণ হয়। তাই যত্রতত্র মাইকিং বন্ধে এ আয়োজন। এছাড়া একটি মানুষেরও কর্মস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভা কার্যালয়ের তথ্যে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার ভারত সীমান্ত ঘেঁষা ছোট্ট একটি পৌরসভা হাকিমপুর । মাত্র ২৮ হাজার ৪১১ জনকে নিয়ে এ পৌরসভা। তবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলি হওয়ায় পৌরসভাটির গুরুত্ব অনেক। বাসিন্দাদের শব্দ দূষণ ও ভোগান্তির কথা চিন্তা করে গেলো বছর মাইকিং প্রচার সেবা চালু করে পৌর কর্তৃপক্ষ।
মাইকিং সেবার আওতায় আনা হয়েছে পুরো পৌরসভাকে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে খুঁটিতে স্থাপন করা আছে মোট ৭২টি মাইক। পৌরসভার কার্যালয়কে করা হয়েছে প্রচার কেন্দ্রস্থল।
পৌরসভার মহিলা কলেজ এলাকার জেসমিন আক্তার বলেন, আমার স্বামী বিদেশে থাকে। সেখান থেকে পাঠানো টাকা ব্যাংক থেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে হারিয়ে যায়। পরে পৌরসভার প্রচার মাইকে মাইকিং করে হারানো টাকা ফেরত পাই।

স্থানীয় নাগরিক সোহাগ হোসেন বলেন, আগে পৌরসভার মধ্যে এলোমেলোভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালাতো। এতে শব্দদূষণ হতো। পৌরসভা প্রচার মাইক চালুর ফলে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে নির্দিষ্ট সময়ে প্রচারের জন্য শব্দ দূষণ কিছুটা হলেও কমেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত জাগো নিউজকে বলেন, পৌরবাসীর সেবার কথা চিন্তা করে গেলো বছর পৌরসভা প্রচার মাইকিং সেবা চালু করে। ফলে মানুষ কম সময়ে ও কম খরচে তাদের প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে পারছে। নির্দিষ্ট একটা স্থান থেকে প্রচারের ফলে শব্দ দূষণ কিছুটা কমে আসছে। এছাড়া মানুষ এ সেবার মাধ্যমে অনেক হারানো জিনিসও ফিরে পাচ্ছে।
মো. মাহাবুর রহমান/এসজে/জিকেএস