‘সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমাবদ্ধের সিদ্ধান্ত হতাশাজনক’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন স্কোয়াবের নেতারা

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন সী ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) নেতারা।

তারা বলেছেন, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প বিকাশে সরকার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প। এ অবস্থায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হতাশাজনক।

বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার সৈকত এলাকার হোটেল মিশুকের রেস্তোরাঁয় আয়োজিত ‘টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটক জাহাজ ও পর্যটক সীমিতকরণ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং ট্যুর অপারেটর ও দ্বীপবাসীর স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন তারা সংগঠনের নেতারা এসব কথা বলেন।

স্কোয়াব সভাপতি তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর লিখিত বক্তব্যে বলেন, কক্সবাজার পর্যটনশিল্প নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। সম্প্রতি সরকারের ঘোষিত ১৩ দফার সঙ্গে আমরাও একমত। দীর্ঘ দুই দশক ধরে পর্যটন সেবার পাশাপাশি সেন্টমার্টিন সুরক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করছি আমরা। নেতিবাচক প্রভাব থেকে দ্বীপ রক্ষায় পালন করা হয় বিভিন্ন কর্মসূচিও। প্রকৃতি ও পর্যটন দুটির সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সেন্টমার্টিনে পর্যটক সীমিত করা হলে ক্ষতির মুখে পড়বে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই প্রতিদিন ১০টি জাহাজে সর্বোচ্চ ৩০০০ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন যাতায়াত করবে। যাদের মধ্যে ১৪০০ পর্যটক হোটেলে অবস্থান করবেন। আর ১৬০০ পর্যটক ফিরে আসবেন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যদি দুটি জাহাজ চলাচল করে তবে ১২৫০ জন পর্যটক যাতায়াতের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে কয়েক হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত হবে। এ অবস্থায় স্বল্প সংখ্যক পর্যটকদের নিয়ে ব্যবস্থাপনায় সংকটে পড়বে সেন্টমার্টিনে গড়া ১৮৮টি আবাসিক হোটেল।

হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, সেন্টমার্টিন ঘিরেই এক তৃতীয়াংশ পর্যটক আগমন ঘটে কক্সবাজারে। সেন্টমার্টিনে পর্যটক সীমিত করা হলে, কক্সবাজারে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি হোটেল-মোটেল ও ব্যবসা এবং পর্যটন খাতে লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগে ধস নামবে।

স্কোয়াব নেতারা বলেন, সুপারিশ মতে সেন্টমার্টিন যেতে হলে নাকি ট্যাক্স দিতে হবে। আমার দেশের ভূ-খণ্ডে যেতে কেন আমরা ট্যাক্স দিবো? পটুয়াখালী, সুন্দরবন ও সিলেট বা অন্য এলাকায় পর্যটন প্রমোট করতেই সেন্টমার্টিন নিয়ে এমন সব হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রস্তাবনা দেওয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা কক্সবাজারের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামবে।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।