বছরের ৯ মাস পানিতে থাকে শ্রেণিকক্ষ-খেলার মাঠ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৫:০৪ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২
পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিদ্যালয়ের ভবন

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় বিলের পাশে অবস্থিত সমনডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে অবকাঠামো বলতে তিন রুমের একটি একতলা ভবন রয়েছে। বর্তমানে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাই পাশের একটি টিনের ঘরে কয়েকজন স্থানীয় শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান চলে। তবে বিলের পানি সরতে না পারায় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও খেলার মাঠ বছরের প্রায় ৯ মাস পানিতে থাকে। এতে ঝরে পড়ছে এ এলাকার শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৫ সালে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে সমনডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। তবে কয়েক বছর আগে ভবনটির ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়তে থাকে। নষ্ট হয়ে গেছে দরজা জানালা। এছাড়া বেশিরভাগ সময় শ্রেণিকক্ষও মাঠে পানি জমে থাকে। তাই গেল কয়েক বছর ধরে স্কুলের খেলার মাঠে একটি টিনের চাল দিয়ে শিক্ষার্থীদের কোনোরকম পাঠদান করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে করোনার কারণে স্কুলটি বন্ধ থাকায় অনেক শিশু শিক্ষার্থী লেখাপড়া ছেড়ে বিভিন্ন কাজে যোগ দিয়েছে।

jagonews24

সমনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অল্পনা রাণি বলেন, আমাদের গ্রামে আসার জন্য কোনো রাস্তা নেই। বিলের বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। খালের ওপর একটি সাঁকো রয়েছে সেটি পার হয়ে স্কুলে আসে শিশুরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষে ও খেলার মাঠে পানি জমে থাকে। পানিতে ভিজলে চর্মরোগসহ নানা রোগে ভুগতে হয় তাদের। তাই তাদের বাবা-মা স্কুলে যেতে দিতে চায় না।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, খালের ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিলের পানির মধ্যে দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। এজন্য আমরা শিশুদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকি। এছাড়া জলাবদ্ধ ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে শিশুরা নানা ধরনের ঘা পাঁচড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে তাদের সন্তানদের দূরের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছে।

jagonews24

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমল কৃষ্ণ সরকার জাগো নিউজকে বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে বর্তমানে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবন না থাকায় আমরা পাশে একটি টিনে ঘরে ক্লাস নিচ্ছি। এছাড়া বেশিরভাগ সময় শ্রেণিকক্ষ ও মাঠে পানি জমে থাকে। এছাড়া করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। অভিভাবকদের কাছে গিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। এছাড়া টিনের চালের বিভিন্ন জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। বৃষ্টি এলেই পানি পড়ে। এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে সেটি মেরামতের চেষ্টা চলছে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫১জন শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। পরিত্যক্ত ভবনের বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে অনেক ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। সেখানে এর আগে একবার নতুন ভবন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মালামাল পৌঁছানো যায়নি বলে সেটি বাতিল হয়।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় বছরে কয়েক মাস পানি জমে জলাবদ্ধতা থাকে। এজন্য নতুন করে সেখানে একটি সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, এরই মধ্যে আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আহসানুর রহমান রাজীব/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।