ফুলবাড়ীতে কেন্দ্র বন্ধ রেখে দেওয়া হলো না টিকা, তদন্ত কমিটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ০১ মার্চ ২০২২

সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গণটিকা কেন্দ্র বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। তবে কী কারণে গণটিকা কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছিল তার কোনো সদুত্তর মেলেনি সংশ্লিষ্ট কারও কাছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গণটিকার আওতায় সারাদেশে এক কোটি ডোজ টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পরে এর সময় দুইদিন বাড়িয়ে তা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সোমবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় দুটি কেন্দ্র ছাড়া বন্ধ ছিল বাকি সব গণটিকা কেন্দ্র। টিকা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে অনেককে।

এদিকে, গতকাল টিকা না পেয়ে আজ (১ মার্চ) আবার ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেজিস্ট্রেশন কপি নিয়ে এসেও টিকা পাননি অনেকে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, টিকা কার্যক্রম বন্ধ। টিকার কার্ড হাতে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে ভিড় করছেন অনেক নারী-পুরুষ।

টিকা নিতে আসা উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের ঘুঘুজান গ্রামের মনোয়ারা বেগম বললেন, তিনি টিকা নেওয়ার জন্য তিনদিন থেকে ঘুরছেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনিশিয়ান মো. সাইফুল ইসলাম তাকে বলেন, আজকে টিকা দেওয়া শেষ, অন্যদিন আসেন।

Corona-vaccine-3.jpg

একই কথা বলেন, পৌর এলাকার বারকোনা গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক মোজাফফর আলী সরকার। তিনি বলেন, তার স্ত্রী মাজেদা বেগমকে নিয়ে তিনদিন থেকে বিভিন্ন গণটিকা কেন্দ্রে ঘুরছেন। মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার পরও তার স্ত্রীকে টিকা দেওয়া হয়নি।

উপজেলার বেতদিঘী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের নয়ন বাবু বলেন, গত সোমবার টিকা নিতে গিয়ে দেখতে পান কেন্দ্র বন্ধ। এরপর তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেও টিকা নিতে পারেননি।

একই কথা বললেন, মোসলেম উদ্দিন। তিনি ও তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন সোমবার গণটিকা কেন্দ্রে গিয়ে টিকা না পেয়ে, মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছেন। কিন্তু তাদেরও টিকা দেওয়া হয়নি।

রামভদ্রপুর গ্রামের সুজন মিয়া বলেন, তিনি ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। সেখান থেকে ছুটি নিয়ে এসেছেন টিকা নেওয়ার জন্য। কিন্তু তাকেও টিকা দেওয়া হয়নি।

তছলিম উদ্দিন নামে এক রেলওয়ে কর্মচারী জানান, তিনি শান্তাহার থেকে এসেছেন টিকা নেওয়ার জন্য। মঙ্গলবার সকালে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন কিন্তু সাড়ে ১২টার পর তাকে বলা হয়, আজকে আর টিকা দেওয়া হবে না।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট ইপিআই (এমটিইপিআই) মো. সাইফুল ইসলাম সোমবার গণটিকা কেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমানের নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে।

Corona-vaccine-3.jpg

তবে বিষয়টি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুর-ই-আলম খুশরোজ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ছুটিতে আছেন। ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান সাজু দায়িত্বে আছেন। তিনিও বিশেষ প্রয়োজনে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ছিলেন। এমটিইপিআই সাইফুল ইসলাম নিজ দায়িত্বে গণটিকা কেন্দ্র বন্ধ রেখেছেন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমানকে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিয়াজ উদ্দিনের কাছে গণটিকা কেন্দ্র ২৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণটিকা কেন্দ্র সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খোলা থাকার কথা কিন্তু কেন বন্ধ ছিল এই বিষয়টি তার জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. এ এইচ এম বোরহান-উল- ইসলাম সিদ্দিকির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। ২৮ ফেব্রুয়ারি গণটিকা কেন্দ্র খোলা রাখার নির্দেশ ছিল, কিন্তু কেন বন্ধ ছিল, এই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা আগামীকাল (বুধবার) তদন্তে যাবেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমদাদুল হক মিলন/এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।