১৫ বছর পর স্ত্রী-সন্তানসহ ফিরে এলেন ‘নিখোঁজ’ যুবক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ১০:১০ এএম, ০২ মার্চ ২০২২

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বাঘহাছলা গ্রামের মনিরুল ইসলাম (৩৭) ঢাকায় কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। ১৫ বছর পর গত রোববার (২৭ মার্চ) বাড়ি ফিরেছেন তিনি। সঙ্গে এসেছেন স্ত্রী ও দুই সন্তানও। কিন্তু এত বছরে বাড়ি না আসায় মনিরুলের পরিবার তার সঙ্গে সেসময় ঢাকায় যাওয়া দুই মামাত ভাইকে অভিযুক্ত করে মামলা দেয়। মামলাটি এখনও সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে।

মনিরুলের পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে মতিন ও আমিরুলের ওপর নানাভাবে দোষ চাপাতে থাকে। মতিন ও আমিরুল নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও মনিরুলের পরিবার তা মেনে নেয়নি। তারা ঘটনার ১০ বছর পর ২০১৭ সালে মনিরুল নিখোঁজ হয়েছেন বলে মতিন ও আমিরুলকে অভিযুক্ত করে পাবনা আদালতে মামলা করে তার পরিবার। সেসময় আদালতে হাজির হয়ে মতিন ও আমিরুল জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান। দেড় মাস কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্তি পান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করছে।

মতিন ও আমিরুলের ভাই জসিম উদ্দিন জানান, মনিরুলের স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তার সংসার ভেঙে যায়। মনিরুল ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। মতিন ও আমিরুল বাড়ি ফিরে এলেও মনিরুল ঢাকা থেকে কুমিল্লায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন। তিনি বিয়ে করে ঘর-সংসার করেন। সেখানে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। অথচ নির্দোষ হয়েও তার ভাইয়েরা কারাবাস করেছেন।

জসিম উদ্দিন জানান, তার দুই ভাইয়ের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের কারাবাস করতে হয়েছে। তিনি এজন্য মনিরুল ও তার পরিবারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

এদিকে মনিরুলের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, গত ১৫ বছর মনিরুলের কিছুটা স্মৃতিভ্রম হয়েছিল। স্মৃতি ফিরে আসায় তিনি বাড়িতে ফিরেছেন।

তবে মনিরুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান মঙ্গলবার (১ মার্চ) জানান, ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন মনিরুল ইসলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ-খবর না পাওয়ায় বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। দীর্ঘ সময় নানা নাটকীয়তা শেষে রোববার স্ত্রী ও ৩ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন মনিরুল।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হাদিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। তবে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই আদালত থেকে নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।