বসন্তকে রাঙিয়ে তুলেছে পাবনার বইমেলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ১০:৫১ এএম, ০২ মার্চ ২০২২

শতবর্ষী ঐতিহ্যের পাবনা জেলায় প্রতি বছরই অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও যথারীতি এর আয়োজন করেছে বইমেলা উদযাপন পরিষদ। রাজধানী ঢাকার বাইরে মফস্বল শহরে এই জেলাতেই সবচেয়ে বড় বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলার তারিখ ও সময়কাল পরিবর্তন হলেও বইমেলার আয়োজন এক উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে পাবনায়। দিন যতই যাচ্ছে জমে উঠছে অমর একুশে বইমেলা।

পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বইমেলা চলবে পক্ষকালব্যাপী। তবে এবারও মাসব্যাপী বইমেলা চলার দাবি উঠেছে।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, বইপ্রেমী মানুষের মিলনমেলায় প্রাণবন্ত পাবনার অমর একুশে বইমেলা। বইয়ের স্টলগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। মেলায় অংশ নেওয়া স্টল মালিকরা জানালেন তাদের কাটতি এবার আশাতীত। শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, শিক্ষানুরাগীসহ সব বয়সী মানুষ মেলায় আসছে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ বইপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে। প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Pabna-(3).jpg

বইমেলার আয়োজকরা জানান, পাবনায় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মাসব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকার পরই পাবনার বইমেলা তার অবস্থান করে নিয়েছে। করোনা সংকটের কারণে এবার সময়কাল একটু হেরফের হয়েছে।

বইমেলায় অংশ নেওয়া স্টল মালিক ও প্রকাশক আর. কে আকাশ জানান, অনেকের ধারণা এখন ফেসবুক ইউটিউবের যুগ। মুদ্রিত বইয়ের দিন বুঝি শেষ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। গত কয়েক বছর ধরে তার নীলাকাশ প্রকাশনী পাবনা বইমেলায় অংশ নিচ্ছে। গত তিন-চার বছর আগে যত বই বিক্রি হয়েছে এবার তার চেয়ে বেশি বই বিক্রি হয়েছে।

সদ্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স শেষ করা আনিকা আফরোজ জানালেন, পাবনার মতো মফস্বল শহরে এ মেলা অনেক গর্বের। তিনি মেলা ঘুরে তার পছন্দের বই কিনেছেন বলে জানান।

কলেজ ছাত্রী সাবরিনা বলেন, অনেক দিন পর প্রিয় লেখকদের বই কিনে খুব খুশি লাগছে। মেলা মঞ্চে প্রতিদিন বই পড়ার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়। এটাও একটা ভালো দিক।

Pabna-(3).jpg

মেলায় আসা প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, বসন্তের হাওয়া বইছে বইমেলায়। বইয়ের মেলা যেন হাজরো প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে।

একুশে বইমেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কমরেড জাকির হোসেন বলেন, এই বইমেলাকে ঘিরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল বইপ্রেমীরা। দেশে শুধুমাত্র ঢাকা ও পাবনা জেলায় মাসব্যাপী বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রধান কবি আলমগীর হোসেন হৃদয় বলেন, ভার্চুয়াল জগতে অহেতুক ডুবে না থেকে বই পড়ায় অভ্যস্ত হতে হবে। আলোকিত মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে। পাবনায় নতুন লেখক ও প্রকাশক তৈরিতে এ বইমেলা বিরাট ভূমিকা রাখছে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।