সুস্থ হয়ে আকাশে উড়লো ১৯ শকুন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২২
আকাশে উড়ছে শকুন

উত্তরের হিমালয় থেকে খাদ্যের সন্ধানে এসে অসুস্থ হয়ে লোকালয়ে আছড়ে পড়া ১৯টি শকুনকে সুস্থ করে তোলার পর মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া জাতীয় উদ্যান শাল বনে শকুন চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে ১৯ শকুনকে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে এখন শকুনের দেখা একেবারেই মেলে না। সাধারণত শকুন ভারত ও নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে। সেখানে খাদ্যের অভাব দেখা দিলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় চলে আসে। বিভিন্ন সময় দুর্বল হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া জাতীয় উদ্যানে শকুন চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।

jagonews24

এবার বিভিন্ন সময় পাওয়া ১৯টি শকুনকে চিকিৎসা শেষে মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হলো। আকাশে অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইকবাল আব্দুল্লা হারুন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বন সংরক্ষণ ও প্রকল্প পরিচালন উপ-প্রধান গবিন্দ রায়, আইইউসিএন কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ রাকিবুল আমিন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, বন সংরক্ষণ, বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মো. মোল্লা রেজাউল করিম, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এএসএম জহির উদ্দিন আকন্দ, বন সংরক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম, দিনাজপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বসির-আল মামুন, রাজশাহীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আহমদ নাইমুর রহমান, রংপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাতলুবুর রহমান।

শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কিছু শকুন শীত মৌসুমে বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশে আসে। দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নামে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব শকুনের পরিণতি হয় মৃত্যু। আর যেগুলো আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়, তাদের নিয়ে আসা হয় বীরগঞ্জের সিংড়া ফরেস্টে। সিংড়া ফরেস্টে শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপনের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। সিংড়া ফরেস্ট থেকে প্রতি বছর উদ্ধারকৃত ২০ থেকে ২৫টি শকুন সুস্থ করার পর অবমুক্ত করা হয়।

jagonews24

শকুনদের চিকিৎসার বিষয়ে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভেটেরিনারি বিভাগের চিকিৎসক খাদিজা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, শকুনই একমাত্র প্রাণী, যা রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণী খেয়ে হজম করতে পারে এবং অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা, খুরারোগের সংক্রমণ থেকে অবশিষ্ট জীবকুলকে রক্ষা করে। তাই তারা প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বড় বড় গাছ ও খাদ্যের অভাব ছাড়াও বাংলাদেশে ডাইক্লোফেনাকের বেশি ব্যবহারের কারণে শকুন বিলুপ্তির মুখে।

শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রের মুখ্য গবেষক সারওয়ার আলম দিপু জাগো নিউজকে বলেন, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সিংড়া জাতীয় উদ্যানে কেন্দ্রটি চালু করা হয়। এরপর থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৪৯টি শকুনকে সুস্থ করে মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধুমাত্র ২০২১ সালে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ৩২টি শকুন এখানে আনা হয়।

এমদাদুল হক মিলন/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।