অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে মোবাইল ছিনতাই করতেন তারা
বগুড়ায় অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে ডেকে এনে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি চোরাই মোবাইল ও বিপুল পরিমাণ মোবাইলের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতাররা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহানগর গ্রামের মোকলেছুর রহমানের ছেলে নূর কবীর শাকিল (২৪), বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে স্বাধীন মিয়া (২০) এবং একই গ্রামের সাকী আব্বাসীর ছেলে সাদী আব্বাসী (২০)। এদের মধ্যে নূর কবীর শাকিল বর্তমানে বগুড়া সদরের জামিল নগর দক্ষিণপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছেন।

এর আগে দুপুরে গ্রেফতারদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।
তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় একটি চক্র ফুডপান্ডার ক্রেতা সেজে এবং অনলাইনে মোবাইল বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে ডেকে এনে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। শাজাহানপুর থানা পুলিশ ও কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অপরাধীদের শনাক্ত করতে তৎপর হন। রোববার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের রানীরহাট বাজার এলাকা থেকে নূর কবীর শাকিল, স্বাধীন মিয়া ও সাদী আব্বাসী নামে ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আটকদের কাছ থেকে তিনটি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আটক নূর কবীর শাকিলের ভাড়া বাসা থেকে ফুডপান্ডার ডেলিভারি ব্যাগের ভেতর থেকে চোরাই ও ছিনতাইকৃত তিনটি আইফোন ও ৩৩টি আইফোনের সামনের ও পেছনের বিভিন্ন ধরনের ৬০টি যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, শাকিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি মোবাইলের আইএমইআই নম্বর, সেটিংস ও জি-মেইল অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন করতে পারে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। এছাড়া মোবাইলের মালিকানা ও পরিচিতি পরিবর্তন করার জন্য এক মোবাইলের যন্ত্রাংশ অন্য মোবাইলে সংযুক্ত করে থাকেন। এজন্য শাকিল তার ভাড়া বাসার গোপন কক্ষ ব্যবহার করতেন।
এসজে/এএসএম