মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি শফিক কিশোরগঞ্জ কারাগারে
বহুল আলোচিত রমনা বটমূলে বোমা হামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি জঙ্গিনেতা মুফতি শফিকুর রহমানকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে র্যাব-পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। ২ নম্বর আমলি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে গ্রেফতার করা হয় জঙ্গিনেতা মুফতি শফিকুর রহমানকে। গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকায় নিয়ে যায় র্যাব। আজ বিকেলে তাকে ভৈরব থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ ভৈরব থানায় তার নামে মোট ছয়টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
২০০১ সালে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় জড়িত মুফতি শফিকুর রহমান ওরফে আব্দুল করিম ওরফে শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক (৬১)।
রমনা বটমূলে হামলার পর ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আত্মগোপনে থেকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন মুফতি শফিক। আব্দুল করিম নাম ধারণ করে ২০০৮ থেকে নরসিংদীর একটি মাদরাসায় আত্মগোপন করেন।
নরসিংদীর চর এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা বেতনে ইমামতির চাকরি নেন শফিক। ইমামতির আড়ালে তিনি ধর্মের নামে বিভ্রান্তিমূলক অপব্যাখ্যা প্রচার করতেন। কৌশলে মাঝে মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে একটি জনসভা চলাকালে প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেনেড হামলা হয়। ওই হামলায় ২৪ জন নিহত ও প্রায় তিন শতাধিক গুরুতর আহত হযন। ওই ঘটনায় ঢাকার মতিঝিল থানায় একটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টার সহযোগিতাসহ দুটি পৃথক মামলা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইবুন্যাল ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মুফতি শফিকুর রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
গ্রেফতার শফিকুর রহমান ওই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। একই ঘটনায় ঢাকার মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা অপর মামলারও পলাতক আসামি ছিলেন তিনি।
নূর মোহাম্মদ/এসআর/এমএস