ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণা, যুবক গ্রেফতার
নওগাঁর পত্নীতলায় ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইমরান হোসেন (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যৌথ অভিযান চালিয়ে রোববার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার নজিপুর নতুনহাট সংলগ্ন ঠুকনিপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ইমরান হোসেন ঠুকনিপাড়া মহল্লার ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। চক্রের মূল হোতা দিনাজপুর জেলার ডাংগাপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মাহফিজুল ইসলাম (২৬)। তিনি নিজেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) দেলোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত সচিব দাবি করে চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করতো। আর মধ্যস্ততাকারী হিসেবে কাজ করতেন পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর গ্রামের ছাইদুর রহমানের ছেলে মিফতাহুল জান্নাত। ঘটনার পর তারা দুজন পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানায়, বগুড়ার রহিমাবাদ গ্রামের আক্তারুজ্জামানের শ্বশুরবাড়ি পত্নীতলার নজিপুর পৌরসভার চাঁনপুর মহল্লায়। শ্বশুরবাড়িতে আসা-যাওয়ার সুবাদে প্রতারক ইমরান হোসেনের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরবর্তীতে আক্তারুজ্জামানকে আরেক প্রতারক মিফতাহুল জান্নাতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ইমরান। এ সুবাদে তারা আক্তারুজ্জামানকে প্রস্তাব দেন টাকার মাধ্যমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি দেওয়ার। যদি কেউ চাকরি করতে চায় তাদের সঙ্গে যেন যোগাযোগ করেন।
গত ৪ জানুয়ারি আক্তারুজ্জামান তার খালাতো ভাই পারভেজ মোশারফ ও প্রতিবেশী ছোট ভাই সামিউল ইসলামকে চাকরি দেওয়ার শর্তে আলোচনা সাপেক্ষে প্রতারকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তির সময় নগদ ১ লাখ টাকা পরিশোধ করেন তারা। পরবর্তীতে কয়েক দফায় আরও ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে প্রতারকরা তালবাহানা করে। হঠাৎ একদিন কুরিয়া সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের দুজনের কাছে নিয়োগপত্র আসে। সেই পত্র নিয়ে তারা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান অফিসে যোগাযোগ করলে তা ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনায় ইমরান হোসেন নামে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আটক ও পলাতকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আব্বাস আলী/এসজে/জিকেএস