অডিটের নামে মাদরাসা-এতিমখানা থেকে টাকা আদায়, আটক ২

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ১৭ মে ২০২২

অডিটের নামে নওগাঁর বদলগাছীতে এতিমখানা ও মাদরাসা পরিদর্শনে গিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনায় আটক হয়েছেন দুই যুবক।

মঙ্গলবার (১৭ মে) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা চমচমপুর মাদরাসা থেকে তাদের আটক করে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

আটক দুই যুবক হলেন- বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভান্ডারীকাঠি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে রেজাউল ইসলাম (২৮) ও মাদারীপুরের রাজউর উপজেলার আমগ্রাম গ্রামের মৃত অনিল চন্দ্রর ছেলে অবির ঘোষ (৩০)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে একটি অটোরিকশা নিয়ে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের হযরতপুর নারানী হাফেজিয়া মাদরাসায় যান রেজাউল ইসলাম ও অবির ঘোষ। তারা নিজেদের ঢাকা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো অডিট কর্মকর্তা পরিচয় দেন। সেখান থেকে দুই হাজার টাকাও নেন। এরপর পালশা আকতার সিদ্দিকী আফেজিয়া মাদরাসায় গিয়ে এক হাজার টাকা, বালুভরা মহির উদ্দীন বেসরকারি শিশুসদন থেকে এক হাজার টাকা এবং আধাইপুর ইউনিয়নের দেউলিয়া দারুল এহসান হাফেজিয়া মাদরাসা থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেন।

বেলা ১১টায় উপজেলা কদমগাছী এবং কাদিমপুর হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা অডিট করতে গেলে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয়। এ সময় তারা অটোরিকশাযোগে পালানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে সমাজসেবা অফিসের দুই কর্মচারী ফিরোজ হোসেন ও রজত গোস্বামী তাদের জাবারীপুর বাজার থেকে আটক করে অফিসে নিয়ে যান।

দেউলিয়া মহিরউদ্দিন বেসরকারি শিশুসদনের ক্যাশিয়ার আব্দুল মতিন জাগো নিউজকে বলেন, ওই দুই যুবক সকালে শিশু সদনে গিয়ে নিজেদের পরিচয় দেয় মন্ত্রণালয় থেকে অডিট করার জন্য আসছে। এরপর তাদের সবকিছু ঘুরে দেখানো হয়। শিশু সদন থেকে যাওয়ার আগে তারা খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। তবে কিছু কম দিলে হবে বলে জানান। পরে তাদের ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আরও এক হাজার টাকা দাবি করেন এবং তাড়া দিচ্ছিলেন। পরে আবারও এক হাজার টাকা দিলে তারা তড়িঘড়ি করে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আটক রেজাউল ইসলাম নিজেকে বাংলাদেশ আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশনের (বাসক) সদস্য বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এতিমখানা ও মাদরাসাগুলো পরিদর্শনে অফিস আমাদের অডিটের জন্য পাঠিয়েছে। তাদের কাছ থেকে টাকা আমি নিয়েছি। কিন্তু টাকা নেওয়া আসলে ঠিক হয়নি। এখানে আসার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে একটা প্রতিবেদন তৈরি করা। যা আমাদের সংস্থার মাধ্যমে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করা হবে। এছাড়া উপজেলা অফিসেও বিষয়টি না জানানো আমাদের ভুল হয়েছে।

বদলগাছী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. রোকনুজ্জামান মন্ডল বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়ন ও বরাদ্দ দেওয়ার নামে উপজেলার এতিমখানাগুলো পরিদর্শন করছিল ওই প্রতারক চক্র। তারা উপজেলার চমচমপুর মাদরাসায় যাওয়ার পর সেখান থেকে আমার অফিসে ফোন করে বলা হয় অডিটের জন্য ওপর থেকে লোক আসছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন ও বরাদ্দ দেওয়ার নামে তারা টাকা-পয়সা দাবি করে। সন্দেহ হওয়ায় তাদের হাতেনাতে আটক করে অফিসে নিয়ে আসা হয়। তারা স্বীকার করেছে প্রতারক। আমি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার জন্য এজাহার দিয়েছি।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আব্বাস আলী/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]