শরীয়তপুরে শয্যা সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডায়রিয়া রোগীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ২৬ মে ২০২২

শরীয়তপুরে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন সদর হাসপাতালে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম। শয্যা সংকট হওয়ায় ওয়ার্ড ছাড়িয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।

গত ১৯ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে অন্তত ২০৪ জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও নারী রোগীর সংখ্যা বেশি। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

শরীয়তপুর সিভিল সার্জন অফিস ও সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার (২৬ মে) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সদর হাসপাতালে ২৫ জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়েছেন। অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। সদর হাসপাতালসহ জেলার হাসপাতালগুলোতেও রোগী বেড়েছে। তবে জেলায় মে মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যু হয়নি।

jagonews24

সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর মুসলিম পাড়া গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর মাল বলেন, গত মঙ্গলবার আমি ও আমার মা হাসপাতালে আসি। বেড না পেয়ে আমাদের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। স্যালাইন ছাড়া সবকিছু বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাইনি।

নাজমা বেগম বলেন, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছি। হাসপাতালে বেড পাইনি। চাদর বিছিয়ে মেঝেতে শুয়ে আছি।

সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চরচটাং গ্রামের রোগী মাহিম হাসানের বাবা মো. বাদশা মোড়ল বলেন, ছেলেকে নিয়ে দুইদিন হলো এসেছি। হাসপাতালে এসে বেড পাইনি। চাদর বিছিয়ে ছেলেকে নিয়ে মেঝেতে শুয়েছি। গরম আর মশার কামড়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে ছেলেটি।

দক্ষিণ ভাসানচর গ্রামের রোগী মরিয়মের নানি রেশমা বেগম বলেন, হাসপাতালে এসে বেড পাইনি। তাই মেঝেতে নাতনিকে নিয়ে আছি। কষ্ট হচ্ছে নাতনির। আর হাসপাতালের টয়লেটের অবস্থা তো খুবই খারাপ।

jagonews24

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স লিজা আক্তার বলেন, দুইজন নার্স রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এখানে সবচেয়ে বেশি সমস্যা নার্স ও বেডের। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রয়েছে ১০ বেড। বেডের চেয়ে রোগী বেশি। আজ রোগী আছে ৪২ জন। তাই বারান্দার মেঝেতে রাখতে হচ্ছে তাদের।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুস সোবহান বলেন, গত ১৫ দিন ধরে সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই মনে হচ্ছে ডায়রিয়া বাড়ছে। আগের থেকে রোগী কমতে শুরু করেছে। বেড সংকট থাকায় রোগীদের মেঝেতে রাখতে হচ্ছে। রোগীদের বিছানা দিতে হিমশিম খেতে হয়। হাসপাতালে ওষুধ ও স্যালাইনের অভাব নেই। চিকিৎসক ও নার্স নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। হাসপাতালে স্যালাইনের সংকট নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আবহাওয়া পরিবর্তন ও মশা-মাছির কারণে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের রোগী বেড়েছে।

মো. ছগির হোসেন/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]