ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হলেন ১৬ মামলার আসামি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৬:৫২ পিএম, ৩০ মে ২০২২
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার ফারুক হোসেন (বামে) ও সভাপতি শফি মেম্বার (ডানে)

যশোরের চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি মেম্বারকে মনোনীত করা হয়েছে। তবে তিনি পাঁচ বছর আগে পুলিশের ‘শীর্ষ মাদক কারবারির’ তালিকায় ছিলেন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মাদকসহ ১৬টি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও এলাকায় সমালোচনা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ মে যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ১৪ শীর্ষ মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেন। ওই তালিকার চার নম্বরে ছিলেন চৌগাছার বড় কাবিলপুর গ্রামের সোনাই মন্ডলের ছেলে শফি মেম্বার ওরফে শফিকুল ইসলাম। তখন মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাড়াশি অভিযান শুরু হলে শফি মেম্বর বিদেশ চলে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন।

গত ২৮ মে যশোরের চৌগাছার ধুলিয়ানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম শফি মেম্বরকে সভাপতি ও মাস্টার ফারুক হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে আট সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি মেম্বারের বিরুদ্ধে মাদকসহ ১৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় ওয়ারেন্টও হয়েছিল।’

এদিকে, ধরিয়ে দিতে পুলিশের পুরস্কার ঘোষিত সেই ‘শীর্ষ মাদক কারবারিকে’ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোনীত করায় সমালোচনার ঝড় বইছে। ফেসবুকেও পোস্ট করে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের তুলোধোনা করছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, শীর্ষ মাদক কারবারি শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি মেম্বার পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি দেশে এসে শীর্ষ নেতাদের ব্যবস্থা করে দলীয় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুলিয়ানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের নামে মামলা থাকলে দলীয় পদে আসতে পারবে না, এমন কথা কোথাও লেখা নেই। দল যদি মনে করে পদে রাখবে না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা হয়েছে, প্রত্যেকটিই ষড়যন্ত্রমূলক। এসব মামলার ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরইমধ্যে দুটিতে খালাস পেয়েছি। বর্তমানে ১৬টি মামলা আছে। আমি বিদেশে অবস্থানকালেও তিনটি মামলায় আসামি হয়েছি। আমি কখনো মাদকসহ আটক হয়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা ও পুলিশের লোকের সঙ্গে বিরোধ থাকায় আমাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’

‘পাঁচ বছর মেম্বার ছিলাম। জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করেছি। তখন অনেকের কাছে শত্রু হয়েছি। যোগ করেন তিনি।’

তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিকে পদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে সোমবার বিকেলে চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরীর মোবাইল নম্বরে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তিনি বিকেল ৩টার দিকে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, জীবন বৃত্তান্তের তথ্য গোপন করায়, ধুলিয়ানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ঘোষিত সভাপতি পদ স্থগিত করা হলো।

মিলন রহমান/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।