শরীয়তপুরে আ’লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের বিনোদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ১২টি বসতবাড়ি ও ১০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মে) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ইউপি নির্বাচনে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এমদাদ মাদবরকে পরাজিত করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কোব্বাত মাদবর মেম্বার নির্বাচিত হন। সেই থেকে পরাজিত সদস্য প্রার্থী ও বিজয়ী সদস্য এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।

সোমবার দিনগত রাতে পরাজিত প্রার্থী এমদাদ মাদবরের সমর্থকদের সঙ্গে বিজয়ী সদস্যের সমর্থকদের কথা কাটাকাটি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ নিয়ে মঙ্গলবার ভোর থেকে চেয়ারম্যান হামিদ সাকিদারের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ কোব্বাত মাদবরের সমর্থক হাতেম ঢালী, স্বপন, লালমিয়া ও কাশেমের দোকান ও বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে কোব্বাত মাদবরের সমর্থকরা লাল মিয়া ব্যাপারী, রশিদ বেপারী, জলিল ব্যাপারী, মোকছেদ ব্যাপারী, হায়দার সরদার, হেদায়েত সরদার ও ইউনুছ সরদারদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের শরীয়তপুর সদর ও বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউপি সদস্য কোব্বাত মাদবর অভিযোগ করে বলেন, ‘এমদাদ মাদবর, লিটন মুন্সী, সফি ব্যাপারী ও ফারুক মাদবর তুলাসার ও চিকন্দী ইউনিয়ন থেকে লোকজন নিয়ে এসে আমার ও সমর্থকদের বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় জলিল ও মোকদেরসহ ছয়-সাতজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে বিনোদপুর ইউপির সাবেক সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এমদাদ মাদবর বলেন, ‘কোব্বাত মাদবর ও তার সমর্থকরা উল্টো আমার সমর্থকদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে। বাধা দেওয়ায় আমাকেসহ আমার অনেক সমর্থককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদার বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ করি। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এমদাদ মাদবর ও কোব্বাত মাদবর নির্বাচনী প্রতিহিংসার জেরে এলাকায় মারামারি করেছে। সেখানে আমার কোনো নেতৃত্ব বা সম্পৃক্ততা নাই।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ (নড়িয়া সার্কেল) আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ টহল জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. ছগির হোসেন/এসজে/এমএস