আশ্বাসেই থেমে আছে অন্ধ হাফেজ চাঁন সওদাগরের জীবন

নাসিম উদ্দিন নাসিম উদ্দিন , জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর জামালপুর
প্রকাশিত: ০১:০১ পিএম, ১৫ জুন ২০২২

কষ্টের কথা শুনে বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন অনেকেই। আশ্বাস দিয়েছিলেন সমস্যা সমাধানের। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ মাসেও সেই সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্ধ হাফেজ চাঁন সওদাগর।

চাঁন সওদাগর বলেন, আমার কষ্টের কথা শুনে প্রশাসনের লোকজনসহ অনেকে বাড়িতে এসেছিলেন। তারা আমাকে একটি ঘর, একটি ব্রেইল মেশিন ও ছেলের লেখাপড়ার খরচসহ জমির সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। জমিজমার কাগজের সমস্যা কিছুটা সমাধান হলেও অন্য সমস্যাগুলো এখনও মেটেনি।

তিনি আরও জানান, ‘অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন তার ছেলের জন্য একটি কম্পিউটার এবং ‘স্বপ্নিল’ নামে একটি সংগঠন তার জন্য একটি ব্রেইল মেশিনের ব্যবস্থা করে দেয়। এছাড়া আর কেউই খোঁজখবর নেয়নি তার।

jamal1

চাঁন সওদাগর জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব আমখাওয়া গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন তিনি। ছেলে এসএসসি পাস করে বর্তমানে তারাটিয়া গাজী নাসির উদ্দীন মেমোরিয়াল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। ব্রেইল মেশিন দিয়ে অন্ধদের জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বই লিখে সংসার চলে চাঁন সওদাগরের।

অন্ধ হাফেজ চাঁন সওদাগরের ছেলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের একটি ঘরের আবদার ছিলো তা এখনও পাইনি। উপজেলা চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আর খোঁজ নেননি।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, তার জমিতে একটু সমস্যা রয়েছে। সমস্যা সমাধান হলে ঘর করে দেওয়া হবে।

তবে ভিন্ন কথা জানালেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন্নাহার শেফা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, চাঁন সওদাগরকে একটি ব্রেইল মেশিন কিনে দিতে চাইলেও তিনি সেটি নিতে রাজি হননি। ছেলের ভর্তি হওয়ার ব্যাপারেও কোনো কিছু জানাননি।

jamal1

তিনি আরও বলেন, তার একটি ঘরের আবদার ছিলো, কিন্তু তিনি ভূমিহীন না হওয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে সেটি করে দিতে চেয়েছেন। সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ইউএনও। তবে ক্রয়কৃত জমি নিয়ে চাঁন সওদাগরের যে সমস্যাটি ছিলো সেটির সমাধান করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্ধ হাফেজ চাঁন সওদাগরের (৫৩) রোজগারের একমাত্র অবলম্বন ব্রেইল মেশিন। কিন্তু ছয়মাস ধরে সেই মেশিনটি অকেজো ছিল। এতে বন্ধ হয়ে যায় চাঁন সওদাগরের উপার্জন। ব্রেইল মেশিনের জন্য ছয়মাস মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাননি সহযোগিতা।

২৫ জানুয়ারি দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজে ‘সংসার চালাতে নতুন ব্রেইল মেশিন চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ’ শিরনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন্নাহার শেফা। দায়িত্ব নেন সব সমস্যা সমাধানের। এছাড়াও অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]