ফুসে উঠছে ধুনটের ৪ নদীর পানি
অতিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা, বাঙ্গালী, ইছামতি ও মানাস নদীর সঙ্গে খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে কৃষকের পাট, ভুট্টা, মরিচ, সবজি, আখসহ বিভিন্ন জাতের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পূর্ব সীমান্তে যমুনা, পশ্চিম সীমান্তে বাঙ্গালী আর মাঝপথ দিয়ে ইছামতি ও মানাস নদী বয়ে গেছে। কয়েক দিন ধরে অতিবৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর পানি। বড় দুই নদীর পানি প্রবাহিত হয়ে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ ইছামতি ও মানাস নদী। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানিতে কানায় কানায় ভরে উঠেছে খাল-বিল।
অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। প্রতি দিনই যমুনা নদীর পানি বেড়ে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বাঙালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর কুল উপচে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অভ্যন্তরে এবং চর এলাকায় তলিয়ে গেছে বিভিন্ন জাতের ফসল।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাট ও মরিচের ক্ষেত। প্রতিদিনই বন্যা আক্রান্ত ফসলি জমির পরিমাণ বাড়ছে। এছাড়া বসতঘরে পানি প্রবেশ করছে। পানি তোড়ে চরাঞ্চলের বসতঘর ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এ কারণে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটছে চরের মানুষ। পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
এ বিষয়ে ভান্ডারবাড়ি গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। ক্ষেতের অপরিপক্ব পাট গাছ বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ বছর একমুঠো পাট ঘরে তোলার উপায় নেই। একই ধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৈয়াগাড়ি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম ও সখির উদ্দিনসহ অনেকে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নুর নাহার বলেন, যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর চরাঞ্চলসহ অন্যান্য গ্রামের নিম্ন এলাকা তলিয়ে গিয়ে প্রায় ২০ হেক্টর জমির বিভিন্ন জাতের ফসলের ক্ষতির আশংকা রয়েছে। তবে ক্ষেতের ভেতর দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে এসব ফসলের ক্ষতি হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
আরএইচ/জিকেএস