সিরাজগঞ্জে পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ, দুর্ভোগ চরমে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ পিএম, ২২ জুন ২০২২

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ নদ-নদী ও খাল-বিলের পানি বাড়ছে। পানিতে ডুবে গেছে আবাদি জমি। পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন পাঁচটি উপজেলা অন্তত ৫২ হাজার মানুষ।

বুধবার (২২ জুন) সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার হাসানুর রহমান জানান, কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার এবং শহরের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যমুনা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

jagonews24

সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ৫২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার মানুষের চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সুত্রধর জানান, বন্যায় জেলার পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ৬ হাজার ৯২ হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, তিল, কাউন, বাদামসহ উঠতি ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরে বলেন, জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করা হবে। সরকারি অনুবাদ পেলে তাদের দেওয়া হবে।

jagonews24

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান জানান, বন্যার্তদের জন্য কিছু ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেছে। এগুলো বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, আরও ২৪ ঘণ্টা যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এরপর পানি কমবে। তবে বন্যায় এখনো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]