কিশোরগঞ্জে ১০ উপজেলার এক লাখ মানুষ পানিবন্দি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ২৩ জুন ২০২২

বন্যায় কিশোরগঞ্জের ১০ উপজেলার ৬৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার এক লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এরইমধ্যে ১৩ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

বানের জলে ভেসে গেছে, শতশত মাছের ঘের ও পুকুর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গবাদি পশু। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের জন্য ১৪০ মেট্রিক টন চাল, দুই হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট ও নগদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার পাল জানান, বন্যায় এ পর্যন্ত জেলায় ৫২৫টি মাছের পুকুর ও ঘের ভেসে গেছে। এতে চাষিদের ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

jagonews24

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১০টিই প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) পর্যন্ত ইটনা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, অষ্টগ্রামের আটটি, মিঠামইনের সাতটি, তাড়াইলের সাতটি, করিমগঞ্জের ১১টি, নিকলীর সাতটি, কটিয়াদীর তিনটি, বাজিতপুরে পাঁচটি, কুলিয়ারচরে দুটি ও ভৈরব উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৩ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

জেলা প্রশাসক মো. শামীম আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রতিদিন ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৫১৫ জনকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। ২৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে।

এদিকে, দুর্গত এলাকায় সেবা দিতে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ১৬৮ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যা ও দুর্যোগকালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৬৮ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা এরইমধ্যে জেলার ১৩টি উপজেলায় ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করছে।

নূর মোহাম্মদ/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]