জামালপুরে পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ২৩ জুন ২০২২

ধীরে ধীরে জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। পানি কমতে শুরু করেছে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ এবং সরিষাবাড়ীর নিম্নাঞ্চল থেকে। তবে পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আব্দুল মান্নান জানান, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, সকাল থেকেই পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমছে খুবই ধীরগতিতে। আর কয়েকদিনের মধ্যে পানি বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের ১৫৫টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৭০১টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার।

বন্যায় ইসলামপুর এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। উপজেলার আমনের বীজতলা, আউশ, সবজি, মরিচ, পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি কিছুটা কমলেও অনেকে এখনো ঘরে উঠতে পারছেন না।

উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের রহিম বলেন, পানি কমতে শুরু করলেও ঘরের ভেতরে এখনো রয়েছে। বাধ্য হয়েই পোলাপান গরু-ছাগল নিয়ে রাস্তায় কোনোরকমে আশ্রয় নিয়েছি। চারদিন থেকে ইনকাম বন্ধ। এখনো কেউ কোনোকিছুই দিতে আসেনি। হাতে টাকা-পয়সাও নেই কী করবো তা বুঝে উঠতে পারছি না।

বেলাগাছা ইউনিয়নের কাছিমা পশ্চিম পাড়া গ্রামের ছালেহা বেওয়া বলেন, চারদিন থাইকা ঘরে-উঠানে পানি। তবে আইজকা পানি কিছুটা কম মনে হইতাছে। কিন্তু এখনো ঘরে ঢোকার জো নাই।

Jamalpur

তিনি আরও বলেন, একদিকে পোকামাকড়ের ভয়, চুলাই পানি, রান্নাবান্না করা খুবই কষ্ট। আগে মানুষের থাইকা চায়া-চিনতে খাইতাম, বানের পানি আইয়া তাও বন্ধ হইয়া গেছে।

ঘোনাপাড়া গ্রামের আলমাছ মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই বাড়ির চারদিকে পানি। বুধবার বিকেল থেকে পানি দম ধরছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশির ভাগ মানুষ হতদরিদ্র। অনেক পরিবার কয়েকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তারা আজ নিঃস্ব। বন্যার কারণে এক সপ্তাহ ধরে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কর্মহীন। এখন তারা তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারছে না। অনেকেই গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে আছেন। মাঠের জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। এ কারণে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে গাছের পাতা ও পাটের পাতা খাওয়াচ্ছে গবাদিপশুকে।

এ ছাড়া অনেকে জানাচ্ছেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও চরম দুর্ভোগে আছেন এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষজন। কর্মহীন থাকায় অনেকটা অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। ত্রাণ বিতরণের খবর পেলেই ছুটে আসছেন বন্যাকবলিত মানুষজন।

তবে প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ কম থাকায় অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর অভাব।

Jamalpur

তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বন্যাদুর্গতদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ৪৭০ মেট্রিক টন চাল, নগদ সাত লাখ টাকা ও চার হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. জাকিয়া সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, জেলার প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সবজি, মরিচ সম্পূর্ণ এবং পাট ২০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পানি সম্পূর্ণ নেমে যাওয়ার পর জানা যাবে।

মো. নাসিম উদ্দিন/এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]