‘বন্যায় কামাই একেবারে বন্ধ’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ১১:৪১ এএম, ২৫ জুন ২০২২

‘বন্যা আসলে আল্লাহ আমাগো চালায়। বন্যায় মাছ ধরতে না পরায় কামাই একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। কামাই না থাকলে ঋণ করে খাই। কামাই করে ঋণ পরিশোধ করি। কেউ কোনো খোঁজ না নিলেও বছরের পর বছর এভাবেই চলে আমাদের সংসার।’

কথাগুলো বলছিলেন বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের করিরতাইর এবং উলিয়া গ্রামের জেলে সর্দার ফজল শেখ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পানিতে জাল নামানোর আগে ফজল শেখ রাস্তার ধারে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন। তিনি জালের ছোট বড় ছেঁড়াগুলো মেরামত করছেন। তার সঙ্গে মনের আনন্দে কাজ করছেন হরফ আলী, ইসমাইল, সাইফুল, মেহের আলী, কলিম উদ্দিন এবং ওসমান। ফজল শেখ তাদের দলনেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীতে পানি বাড়লে মাছ ধরা পড়ে না। গত একমাস হলো চারদিকে অথৈ পানি। নদীতে মাছ নাই। ঋণ করেই চলছে তাদের সংসার। এরই মধ্যে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। তাই হাসি ফুটতে শুরু করেছে তাদের পরিবারে।

জাল বুনতে বুনতে কথা হয় দলনেতা ফজল শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা নদী ভাঙা এলাকার মানুষ। আগে বাড়ি ছিল আইড়পাড়া এলাকায়। সর্বনাশা যমুনার ভাঙনের ২০০২ সালে এ অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করি। আগেও যমুনায় মাছ ধরেই সংসার চালাতাম। এখনো তাই করি। সকাল হলেই আমাদের একটাই চিন্তা নদীতে মাছ ধরা। কিন্তু গত একমাস হলো নদীতে অনেক পানি। কামাই একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।’

fish1

তিনি আরও বলেন, ১৮ বছর ধরে যমুনায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছি। এখন অনেক খরচ। সংসার চালানোই কষ্ট। একটা নৌকা ও জালের জন্য বছরে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করা লাগে। একটা জাল চারমাসের বেশি ব্যবহার করা যায় না। তবে একটা নৌকা দিয়ে তিনবছর চলা যায়।

ফজল শেখের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে কলিম উদ্দিন বলেন, ‘একমাস হলো আমরা বসে আছি, কোনো কামাই রোজগার নাই। কেউ কোনো খোঁজখবরও নেয়নি। শুনেছি বন্যায় সরকার আমাদের জন্য অনেককিছু পাঠাইছে। কিন্তু আমরা কিছুই পাইনি, যাগোর শক্তি বেশি তারাই পাইছে। এতদিন ঋণ করেই চলেছি। সামনের দিনগুলোতেও ঋণ করেই চলা লাগবো।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম খালেকুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বন্যায় মৎস্য অধিদপ্তর থেকে আলাদাভাবে জেলেদের কোনো অনুদান দেওয়া হয় না। তারা যদি কর্মহীন হয়ে থাকে তাহলে মেম্বার চেয়ারম্যান তাদের খোঁজ খবর নেওয়ার কথা।’

নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিজল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে ১০ জনকে সহযোগিতার জন্য প্রত্যেকের জন্য ১০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তাই সবাইকে সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় চার হাজার কিন্তু জিআর চাল পেয়েছি মাত্র ৯ টন, যা দিয়ে ৯০০ পরিবারকে সহযোগিতা করতে পেরেছি। তাই সব পরিবারকে সহযোগিতা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানভীর হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘উপজেলায় ৭৫ টন জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তার প্যাকেট দেওয়া হয়েছে ২০০। জেলেরা যদি কোনো ধরনের সহায়তা না পেয়ে থাকে তাহলে চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

মো. নাসিম উদ্দিন/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]