যমজ সন্তান জন্ম দিয়ে বিপাকে রুমা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ৩০ জুন ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যমজ সন্তান জন্ম দিয়েছে রুমা আক্তার নামের এক নারী। দুই সন্তানের নাম রেখেছেন হাসান-হোসেন। তার স্বামী দেড় বছর ধরে নিখোঁজ। এ অবস্থায় যমজ সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন রেলস্টেশনে আশ্রয় নেওয়া এ নারী।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভোলার লালমোহন উপজেলার মেয়ে রুমা আক্তার। ছোটবেলায় সৎমায়ের অত্যাচারে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। নির্দিষ্টভাবে বেড়ে ওঠার তার কোনো জায়গা ছিল না। ছুটে চলেছেন এখানে সেখানে। কয়েক বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কেল্লাশহীদ মাজারে আসেন। সেখানে হবিগঞ্জের ইব্রাহিম মিয়া নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তারা বিয়ে করেন।

এক কন্যাসন্তান নিয়ে ভালোই চলছিল রুমার সংসার। দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের পর প্রায় ৯ মাস আগে মেয়েকে নিয়ে চলে যান স্বামী ইব্রাহিম। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও স্বামী-সন্তানের খোঁজ পাননি। রুমা ভাড়া বাসা ছেড়ে আশ্রয় নেন আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে। অন্যের কাছে হাত পেতে চলতো পেট। সুমি আক্তার নামের এক নারীকে মা ডাকতেন। সেই নারী বুধবার (২৯ জুন) রাত ১১টার দিকে রুমাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দুই ছেলেসন্তানের জন্ম দেন রুমা আক্তার।

৩০ বছর বয়সী রুমা আক্তারের কোলজুড়ে এখন ফুটফুটে দুই সন্তান। তবে সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। নিজে এখানে সেখানে বেড়ে উঠলেও ছেলেসন্তানদের কীভাবে লালনপালন করবেন সে নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, দুই সন্তানসহ রুমা এখন ভালো আছেন। এ মুহূর্তে তাকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে হয়তো হাসপাতালে তাকে বেশিদিন রাখা সম্ভব হবে না।

হাসপাতালের ধাত্রী (মিডওয়াইফ) তানিয়া আক্তার ও রোকসানা আক্তার বলেন, ‘প্রসব করাতে গিয়ে দেখি টুইন বেবি। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করানোয় প্রসূতি নারীরও বিষয়টি জানা ছিল না। সমস্যা দেখা দেয় যখন দেখা গেলো ওই নারীর এক সন্তান গর্ভে উল্টো অবস্থায় আছে। আগে এক সন্তান স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হওয়ায় সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ভালোভাবেই প্রসব করানো যায়। রাতে ওই নারী দুটি ছেলেসন্তান প্রসব করেন।’

যমজ সন্তানের মা রুমা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছি। নবজাতকদের নিয়ে কোথায় যাবো, জানি না। সবাই মিলে যেন অন্তত একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেন সেই অনুরোধ আমার।’

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিমেল খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে ওই নারী ও নবজাতকদের সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।’

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]