বেনাপোল-খুলনা-মোংলা কমিউটার ট্রেনের ইজারা চুক্তি বাতিল

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৩:০৪ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেনাপোল-খুলনা রুটের ‌‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেনের ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস করের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী) চিফ কমার্সিয়াল ম্যানেজার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মিরপুরের ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান তিন বছরের জন্য এই ট্রেন দুটি পরিচালনার কার্যাদেশ পেয়েছিল। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ট্রেন দুটি পরিচালনা শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী, বেতনা কমিউটার (৫৩/৫৪) এবং মোংলা কমিউটার (৯৫/৯৬) ট্রেন দুটি দুই জোড়া হিসেবে চলাচল করছিল।

তবে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো ট্রেনের নির্ধারিত ভাড়া ও সরকারি কর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া পরিশোধ না করায় চুক্তির ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়। মাত্র ৩ মাস ১৭ দিন পরিচালনার পর ২৮ এপ্রিল থেকে চুক্তিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।

বেনাপোল রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আইনাল হাসান জানিয়েছেন, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এবং রাজস্ব ক্ষতি এড়াতে শীঘ্রই এই রুটগুলোতে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বেনাপোল-মোংলা এবং মোংলা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী ‘বেতনা কমিউটার’ ও ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেন দুটি আগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতো। বেসরকারি কর্তৃপক্ষ সরকারের সঙ্গে চুক্তির শর্তসমূহ যথাযথভাবে পালন না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ থেকে এই ট্রেন দুটি পুনরায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। ট্রেন দুটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে মঙ্গলবার বহাল থাকবে।

এই পরিবর্তনের ফলে ট্রেনগুলোর সেবার মান এবং ব্যবস্থাপনা সরকারি তদারকিতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের এই নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধনের পর ১১ বছর (২০১০ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত) সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। পরে বেসরকারি খাতে ‘মেসার্স বান্না এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইসলাম শিপ বিল্ডার্স’ চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই ট্রেন পরিচালনা করে। বেসরকারি টিকেট ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবার মান নিম্নমুখী, চোরাকারবারি ও টানাপাটির দখলে চলে গেলে ২০১৩ সালে আবার সরকারি তত্ত্বাবধানে চলে আসে। ট্রেনে বাড়ছে যাত্রী। বেশিরভাগ পাসপোর্ট যাত্রী এ রুটে ভারতে যাতায়াত করেন। লাভজনক ও যাত্রীসেবার মান বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে এ রুটে দিনে দুইবার যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

মো. জামাল হোসেন/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।