নীলফামারীতে জমে উঠেছে পশুরহাট, মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৯:১৯ পিএম, ০২ জুলাই ২০২২
পশুর পাশাপাশি প্রতিদিন বাড়ছে ক্রেতাও

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নীলফামারী বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে পশুর হাট। প্রায় প্রতিদিনই হাটেই বাড়ছে গরুর সংখ্যা। পাশাপাশি উঠছে ছাগল ও ভেড়াও। হাটে প্রতিনিয়ত ভিড় বাড়ছে ক্রেতা দর্শনার্থীদের। তবে বিভিন্ন সাইজের গরু থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা মাঝারিতে।

বিক্রেতারা জানান, ভিড় বাড়লেও খুব একটা ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প সংখ্যক বিক্রি হলেও মাঝারি সাইজের গরু নিচ্ছেন ক্রেতারা। বড় গরুর কেউ কিনতে চাইছেন না। তাই বিক্রিও হচ্ছে। ক্রেতারা মাঝারি সাইজের গরুর দিকে ঝুঁকছেন বেশি।

ক্রেতারা জানান, ঈদের এখনো সাত দিন বাকি। এখন গরু কিনলে বাড়িতে রেখে লালন-পালন কষ্টসাধ্য। ঈদের দু-একদিন আগে গরু কিনলে বাড়িতে রাখা সহজ হবে। তাই শেষ দিকে গরু কেনার অপেক্ষায় আছেন তারা। তবে গতবারের চেয়ে গরুর দাম বেশি।

জেলার বিভিন্ন হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি হাটে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার গরু-ছাগল উঠেছে। সিংহভাগ গরু দেশী। মাঝারি সাইজরে গরু কিনছেন বেশিরভাগ ক্রেতাই। ফলে হাটে প্রকারভেদে গরু বেচাকেনা হচ্ছে ৪৫ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে কিছুটা হতাশ দেখা গেছে ক্রেতাদের।

জেলার সৈয়দপুর উপজেলার আনারুল ইসলাম জানান, হাটে প্রচুর দেশি গরু উঠলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। গতবার যে গরু ৫০ হাজার টাকা ছিল সেই গরু বর্তমানে ৬০ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গো-খাদ্য, খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরুর দামও বেড়েছে। তবে গরু বিক্রেতার চাইতে হাটে গরুর দালাল বেশি।

নীলফামারী বড় হাটে গরু কিনতে আসা রহমত আলী বলেন, ‘গরু কিনতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে গেছি। গরুর দাম কের ফেলার পর প্রকৃত গরুর মালিকের দেখা পাই। কিন্তু তার আগেই দালালকে গরুর দাম ৪ হাজার টাকা বেশি দিয়ে দিয়েছি।’

নীলফামারীতে জমে উঠেছে পশুরহাট, মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

ডোমার বসুনিয়া হাটে গরু কিনতে আসা মাসুম বলেন, ‘মাঝারি সাইজের গরুর দাম গতবারের চেয়ে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা বেড়েছে। হাটে আসা বিরক্তিকর তাই আজই কিনে ফেললাম।’

গোমনাতি হাটে গরু কিনতে আসা আলমগীর বলেন, ‘এবার গরুর দাম অনেক বেশি। এরপরও গরু কিনতে হবে। এবার হাটগুলোতে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে বেশি করে টোল আদায় করছে ক্রেতাদের কাছ থেকে।’

গরু বিক্রেতা আনারুল ইসলাম বলেন, ‘চারটি গরু ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। দাম গতবারের চেয়ে বেশি হলেও লাভ খুব একটা হয়নি।’

সৈয়দপুরের ঢেলাপিরের হাট ছাগলের জন্য বিখ্যাত। ছাগল কিনতে আসা এক নারী বলেন, ‘এবার ছাগল কোরবানি দিবো। তাই আগেভাগে ঢেলাপিরের হাটে এসেছি ছাগল কিনতে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। ২০ কেজি ওজনের একটি ছাগল ১৯ হাজারে কিনতে হলো।

নীলফামারীতে জমে উঠেছে পশুরহাট, মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

হাটের ইজারাদার মামুন জানান, প্রতি হাটেই প্রতিদিন বাড়ছে গরু আমদানি। বেচা বিক্রিও ভালো। গতবারের চেয়ে এবার দাম কিছুটা বেশি হলেও গরুর চেহারা অনেক ভালো। গো-খাদ্যের দাম কমানো গেলে ভবিষ্যতে দেশি গরু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, হাটে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রয়েছে পুলিশের মোবাইল টিম। এছাড়া হাট কমিটির পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোনাক্কা আলী জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি হাটেই রয়েছে অসুস্থ পশু পরীক্ষার টিম। এ জেলায় প্রায় ৩০ হাজারের বেশি রয়েছে গরু মোটাতাজাকরণ খামার। এবার ঈদ উপলক্ষে প্রায় দুই লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে ৭০ হাজারের বেশি গরু অন্য জেলায় পাঠানো সম্ভব।

এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]