কামারপট্টিতে বন্যার ছাপ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৯:২৭ এএম, ০৩ জুলাই ২০২২

অডিও শুনুন

আর ৭ দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু এখনো তেমন ব্যস্ততা নেই মৌলভীবাজারের কামারপট্টিতে। প্রতিবছর এ সময় কামারদের দম ফেলার ফুরসত না থাকলেও এবার বন্যা আর অভাবে কামারপট্টিতে রয়েছে উল্টো চিত্র। অলস সময় কাটাচ্ছেন কামাররা।

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ, শমসেরনগর, মুন্সীবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। একই চিত্র দেখা গেছে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ও টেংরা এলাকায়।

অন্যান্য বছর ঈদুল আজহার দু’তিন সপ্তাহ আগে থেকেই কামারপট্টিতে কামারদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেলেও এ বছর তাদের কাজে কোনো গতি নেই। চাপড়, দা, বটি-ছুরি তৈরিতে দিনরাত একাকার হয়ে যেতো তাদের। কিন্তু এবার বন্যা আর অভাবের কারণে কোরবানিদাতাদের কোনো তৎপরতা নেই। এতে উল্টে গেছে তাদের চিরাচরিত অবস্থা।

Kamar-(3)

কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর বাজারের কামার দিলিপ জাগো নিউজকে বলেন, এই পেশা আমার বাপ দাদার কাছ থেকে পেয়েছি। প্রতিবছর কোরবানি ঈদের এক মাস আগে থেকে ছুরি-চাকু বিক্রি হয়। কিন্তু এবার তেমন বিক্রি হচ্ছে না। আমরা বেকার সময় পার করছি।

কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজারের দীপংকর দেব জাগো নিউজকে বলেন, পুরো বছরের মূল রোজগার হয় এই কোরবানি ঈদে। কিন্তু গত ঈদ থেকে ছুরি-চাকু বিক্রি নেই বললেই চলে। তাছাড়া বর্তমানে ভালোমানের লোহা পাওয়া কঠিন। লোহার দামও বেড়েছে। সেই তুলনায় জিনিস বিক্রি করা কঠিন হচ্ছে। বেচা কেনা নেই, কাজ নেই। এ পেশা নিয়ে আর সংসার চলে না।

রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজারের কামার দীলিপ দে জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি কোরবানির ঈদে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার দা-বটি-চাকু বিক্রি করি। এবার কোনো চাহিদা নেই।

Kamar-(3)

এবারের কোরবানি নিয়ে কথা হলে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা মিজান রহমান, সালাহউদ্দিন শুভ, আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, বন্যা ও অভাবের কারণে এ বছর কোরবানি দেওয়ার কোনো প্রস্তুতি নেননি তারা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে হিমসীম খেতে হচ্ছে তাদের। এ বছর কোরবানি দিলে পুরাতন দা-ছুরিই ব্যবহার করবেন।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দীঘিরপার বাজারের গবাদি পশু ব্যবসায়ী ছুরুক মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, কোরবানির বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এখনো ব্যবসা জমে ওঠেনি। ব্যবসার জন্য স্থানীয় ও বাহির থেকে গরু-ছাগল সংগ্রহ করিনি। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে কামারপট্টিতেও মান্দাভাব দেখা গেছে।

আব্দুল আজিজ/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]