পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে বেড়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ঈদের দ্বিতীয় দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদের আনন্দ আরও একধাপ বাড়িয়ে দিতে অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন সেখানে। নিরাপত্তার ব্যবস্থা ভালো থাকায় দর্শনার্থীরা ঘুরতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন। তবে ভালো মানের রেস্টুরেন্ট, বসার ব্যবস্থা ও পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে বছরে দুই ঈদে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। ঈদুল ফিতরের দিন থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে যান বৌদ্ধ বিহারে। তবে ঈদুল আজহার দিন ব্যস্ততা থাকায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম হলেও দ্বিতীয় দিন থেকে বাড়তে থাকে। ঈদকে ঘিরে প্রায় পাঁচদিন অসংখ্য দর্শনার্থীর সমাগম হয়। উপচেপড়া ভিড় থাকে সেখানে।
সোমবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে দর্শনার্থীদের আগমনে বৌদ্ধবিহার চত্বর ও জাদুঘর প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। স্মৃতি ধরে রাখতে কেউ তুলছেন সেলফি কেউবা করছেন ভিডিও ধারণ। আবার বৌদ্ধবিহারের চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখছেন। তবে সকালের তুলনায় বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো থাকায় দর্শনার্থীরা ঘুরতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন।
গাইবান্ধার রাজাহার গ্রাম থেকে সপরিবারে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে বেড়াতে এসেছিল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম আহমেদ। সে জানায়, ‘পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের বিষয়ে বইতে পড়েছি। ঈদের আনন্দ করতে পরিবারের আট সদস্য মাইক্রোবাস নিয়ে বেড়াতে এসেছি। জাদুঘর দেখলাম। সেখানে অনেক পুরনো বিভিন্ন ধরনের মূর্তি রাখা হয়েছে। ঘুরে অনেক মজা পেয়েছি।’

নওগাঁ শহরের মাস্টারপাড়া থেকে বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘কর্মব্যস্ততার কারণে বৌদ্ধবিহারে তেমন একটা আসার সুযোগ হয় না। ঈদের ছুটি পেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এসেছি। অনেক ভালো লেগেছে ঘুরতে। প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছে।’
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থেকে আসা শাহয়িরা খান বলেন, ‘এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তম পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার। দর্শনার্থীরা ভ্রমণের পর যে খাবার খাবে, এজন্য তেমন ভালো মানের রেস্টুরেন্ট এখানে নেই। এছাড়া বসার মতো বেঞ্চ বা তেমন ব্যবস্থাও নেই। প্রয়োজনের তুলনায় টয়লেটও কম। যদি এসবে ব্যবস্থা করা হয় দর্শনার্থীদের জন্য অনেকটা সুবিধা হবে।’
পাহাড়পুর জাদুঘরের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর বরুন কুমার চক্রবর্তী জাগো বলেন, ‘গত দুবছর করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ ছিল এ পর্যটন কেন্দ্র। তবে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ঈদুল ফিতর থেকে আবারো চালু করা হয়। ঈদকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। ঈদের পাঁচ দিন পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে প্রায় সাড়ে লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
আব্বাস আলী/এসজে/জেআইএম