মাজারের খাদেমের ঘরে মিললো আড়াই কোটি টাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২২

কুমিল্লার তিতাসে আমির হোসেন ওরফে বিশা পাগলা নামের এক ব্যক্তির ঘর থেকে দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ছয় ভরি স্বর্ণালংকার ও এক হাজার ১০০ দিরহাম বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এক নজর দেখার জন্য তার বাড়িতে উৎসুক জনতা ভিড় জমান।

বুধবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বস্তাভর্তি টাকা গণনা শেষে বিকেলে একটি বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে।

বিশা পাগলা তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বড় গাজীপুর গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে। তার স্ত্রী-সন্তান নেই। তিনি এক ভাগনিকে দত্তক নিয়েছিলেন।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস জানান, গত ৮ জুলাই বিশা পাগলা বার্ধক্যজনিত কারণে নিজের ঘরে মারা যান। এরপর মঙ্গলবার দত্তক মেয়ে তাছলিমা আক্তার, স্বজন ও স্থানীয়রা রুমে প্রবেশ করে বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ টাকার সন্ধান পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সারা রাত বাড়ি নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রাখেন পুলিশ।

পরে বুধবার সকাল থেকে গণনাকরে দুপুরে তার পাঁচ ওয়ারিশ বড় ভাই আওলাদ হোসেন, ছোট ভাই জামাল হোসেন, বোন মোরশেদা বেগম, ভাতিজা মোহাম্মদ মিঠু ও দত্তক মেয়ে তাসলিমা আক্তারের যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো জমা করা হয়।

বিশা পাগলা গত ৪০ বছর ধরে নিজ গ্রামের গাজীপুর মাজার শরিফের পাশে একটি বাড়িতে থাকতেন। তিনি ওই মাজারের খাদেম হিসেবে কাজ করতেন। ধারণা করা হচ্ছে ভক্তরা যে টাকা দিতেন সেটি তিনি সংরক্ষণ করেছেন। আপাতত প্রাপ্ত টাকা স্বজনদের একাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ওসি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বলেন, অসুস্থ হলেও তিনি কখনও চিকিৎসকের কাছে যেতেন না। নিজে কিছু কিনেও খেতেন না। কোথাও গাড়িতে চড়ে যেতেন না। এভাবেই তিনি টাকাগুলো সংরক্ষণ করেছেন। মাজারে আসা ভক্তরা তাকে স্বর্ণালংকার, বিদেশি মুদ্রা ও নগদ টাকা দিয়ে যেতেন।

এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম মোর্শেদ জাগো নিউজকে বলেন, আইনি দিকগুলো যাচাই-বাছাই শেষে এ ব্যাপারে পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাহিদ পাটোয়ারী/আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।