জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গায়ে পেট্রল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৮:৩৩ এএম, ১৯ জুলাই ২০২২

ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবন্ধী স্বর্ণ ব্যবসায়ী গায়ে পেট্রল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এ সময় ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর পকেটে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ওই চিরকুটটি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র বরাবর খোলা চিঠি। সোমবার (১৮ জুলাই) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরের দিকে বৃক্ষমেলা উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। ঠিক তার আগমুহূর্তে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশেই গায়ে পেট্রল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ কর্মকার।

পরে র্যালিতে উপস্থিত থাকা বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উদ্ধারকৃত চিরকুট সূত্রে জানা যায়, স্বর্ণ ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ কর্মকার ও তার অন্য প্রতিবন্ধী ভাই শহরের নিলটুলিতে নয়ন জুয়েলার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। ২৫ বছর ধরে তারা দুই প্রতিবন্ধী ভাই স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছেন। তবে ওই প্রতিষ্ঠানে স্বর্ণ সাজিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারায়, তা মজুত করে ব্যবসা করে আসছিলেন।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাব দেখা দিলে তারা মৃত্যুর আশঙ্কায় স্বর্ণ বিক্রি করে ব্যাংকে টাকা জমা রাখার সিন্ধান্ত নেন। এ ঘটনা জানার পর পার্শ্ববর্তী পূর্ণ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী অয়ন কর্মকার সুমন ও তার বাবা সুধির কর্মকার মিলে ভরিপ্রতি ২০০ টাকা বেশি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২৪ ক্যারেটের মোট ২৪০ ভরি ওজনের স্বর্ণের নেন।

এই স্বর্ণ দেওয়ার পরই টাকা চাইতে গেলে অয়ন ও তার বাবা সুধির মিলে প্রতিবন্ধী দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কোনো টাকা বা স্বর্ণ না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে গৌরাঙ্গ কর্মকারের নাতনির সঙ্গে সুধির কর্মকারের ছেলের বিয়ে দিলে তারা স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার কথা জানান।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা

তার কিছুদিন পরই ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর সুধির কর্মকার মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার ছেলে অয়ন কর্মকার ওই স্বর্ণ বা টাকা না দিয়ে দুই প্রতিবন্ধী স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। এ ঘটনার পর গৌরাঙ্গ কর্মকার আইনের স্বরণাপন্ন হয়ে অয়ন কর্মকারকে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অয়ন কর্মকার গত ২৫ মে গৌরাঙ্গকে বাসায় ডেকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও এসিড দিয়ে পুড়িয়ে মারার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। এরপর ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঠিক বিচারের আশায় অনেকের দ্বারস্থ হয়েও বিচার না পেয়ে সোমবার ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

এদিকে ঘটনার সত্যতা জানার জন্য বিকেলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অয়ন কর্মকার সুমনের প্রতিষ্ঠানে গেলে ওই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অথবা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি শুনেছি। আমরাও আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তির সন্ধান জানার চেষ্টা করছি।

এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।