রাতের আঁধারে নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ফেরত দিলেন মাদরাসা সভাপতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ২৩ জুলাই ২০২২

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আশাপুর সিনিয়র আলিম মাদরাসার সভাপতি তৈয়বুর রহমান মিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এক প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে না পেরে রাতের আঁধারে টাকা ফেরত দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাদরাসার সভাপতি তৈয়বুর রহমান একটি ব্যাগ থেকে টাকা বের করে এক নিয়োগ প্রত্যাশীর স্বামীর হাতে তুলে দিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৫ জুন মাদরাসায় চারটি পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে একটি পদ ব্যতীত অন্য তিনটি পদে তিনজন প্রার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। উপাধ্যক্ষ পদে প্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে না পারায় এই পদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। অন্য তিনটি পদে আয়া হিসেবে রেশমা খাতুন, অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী হিসেবে মো. তারিক হাসান এবং অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে মো. নাজমুল হক নির্বাচিত হন।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, মনিরা আলম নামে এক নারী প্রার্থীকে আয়ার চাকরি দেবেন বলে তার স্বামী জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেন মাদরাসার সভাপতি তৈয়বুর রহমান। তিনি যেভাবেই হোক চাকরির ব্যবস্থা করবেন বলে চাকরিপ্রার্থীকে আশ্বাস দেন। কিন্তু মনিরা আলমকে চাকরি না দিতে পেরে তৈয়বুর রহমান রাতের আঁধারে জিয়াউর রহমানকে সেই চার লাখ টাকা ফেরত দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন সভাপতি। আয়া পদের জন্য যদি চার লাখ টাকা দিতে হয় তাহলে অন্যসব পদের জন্য আরও বেশি টাকা দিতে হয়েছে। তিনটি পদে প্রায় ৩১ লাখ টাকা নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে তারা অভিযোগ করেছেন।

অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে আবেদন করা মিতু খানম সবদিক দিয়ে এগিয়ে থেকেও চাকরি পাননি বলে দাবি করেন তার স্বামী নাইমুর রহমান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, মাদরাসার সভাপতি আমার সম্পর্কে চাচা। তার কথামতো সবই করেছি। সবই ঠিক ছিল। কিন্তু নিয়োগের আগের রাতে কী হতে কী হয়ে গেলো কিছুই বুঝলাম না। পরে যদিও ঘুসের টাকা ফেরত পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সব পদেই মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। টাকা ছাড়া কোনো পদে নিয়োগ হয়নি।

এ বিষয়ে মাদরাসার সভাপতি তৈয়বুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানান, তিনি নিয়োগের পরই বাড়ি থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে আশাপুর সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ সঠিক নয়। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, নিয়োগ বাণিজ্যর অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য হয়নি। স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো বাণিজ্য হতে দেওয়া হয়নি।

রাতের অন্ধকারে ঘুসের টাকা ফেরতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাণিজ্য হয়নি বলেই টাকা ফেরত দিয়েছেন।

এন কে বি নয়ন/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।