ছাত্রলীগ নেতা ও পাউবো প্রকৌশলীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি ও হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসেনের দাবি, তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে পিয়ন দিয়ে হেনস্তা করেছেন পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী। অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদের অভিযোগ, যথাযথ সম্মান না করার অভিযোগ তুলে পিয়নকে গালিগালাজ ও তাকে (নির্বাহী প্রকৌশলীকে) হুমকি দিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন।
সোমবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সময়ে এসব ঘটনা ঘটে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অভিযোগ করে বলেন, ‘সোমবার রাতে ফোন দিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। আমি ওনাকে আসতে বলি। ওনি যখন আসেন তখন আমি সরকারি একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে অনলাইনে যুক্ত ছিলাম। এ কারণে ওনাকে ২০ মিনিট মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি আমার অফিসের স্টাফদের গালিগালাজ ও কায়সার নামের এক অফিস সহকারীকে পিঠিয়েছেন। পরে ফোনে আমাকেও গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়াও ডিসি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ও কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তাফাকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম সাদ্দাম হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার এলাকার একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আমার আগে কথা হয়। তিনি আমাকে সোমবার রাতে ডেকে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে অফিসে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী মিটিংয়ের কথা বলে আমাকে বাইরে অফিস সহকারীর রুমে বসিয়ে রাখেন। ঘণ্টাদেড়েক বসে থাকার পরও ডাক না পাওয়ায় আমি চলে আসছিলাম। পিয়ন গিয়ে খবরটি দেওয়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে আবারও ডেকে নিয়ে একই জায়গায় বসান।’
তিনি বলেন, ‘তখন রাত প্রায় সোয়া ১০টা। মিনিট দশেক পর পিয়ন রুমের ফ্যান-এসি সব বন্ধ করে চলে যান। আমি অপমানিত বোধ করে দোতলা থেকে নিচতলায় নামার সময় সেই পিয়নকে সামনে পেয়ে বলি, নির্বাহ প্রকৌশলী আমাকে ডেকে এভাবে হেনস্তা না করলেও পারতেন। কথাটি তিনি গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানালে তিনি উঠে এসে আমাকে হাত ধরে টেনে আবার ওপরে নিতে চান। আমি না গিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।’
‘আমি চলে আসার পর রাতে নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে কল করে বলেন, আপনাকে যথেষ্ট সম্মান করার পরও আপনি চলে গেলেন। তখন আমি পিয়ন অফিসে বসিয়ে ফ্যান-এসি বন্ধ করে হেনস্তার বিষয়টি তুলে ধরি। এসবসহ আরও নানা বিষয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এনিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর আমার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ তোলা দুঃখজনক। আমি কাউকে ফোনে হত্যার হুমকি দেবো এতটা অবুঝ অন্তত নই। আমার অবস্থানকালীন সময়টা সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে প্রমাণ মিলবে’, যোগ করেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম সাদ্দাম হোসাইন।
এ বিষয়ে পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতির দাবি সঠিক নয়। ওনাকে ২০ মিনিটের মতো বসানো হয়েছিল।
সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জেআইএম